প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অক্ষয় – চিরকুমার-সভা St a গান না, না গো, না কোরো না ভাবনা— যদি বা নিশি যায় যাব না, যাব না। যখনি চলে যাই আসিব বলে যাই, আলো-ছায়ার পথে করি আনাগোনা । দোলাতে দোলে মন মিলনে বিরহে । বারে বারেই জানি তুমি তো চির হে। ক্ষণিক আড়ালে বারেক দাড়ালে মরি ভয়ে ভয়ে পাব কি পাব না । নীরবালা। বড়ে নিশ্চিন্ত হলুম। তা হলে ঘুমোতে পারি। অক্ষয় । নিৰ্ভয়ে । [ নৃপবালা ও নীরবালার প্রস্থান শৈলবালা। মুখুজ্জেমশায়, আমি ঠাট্টা করছি নে— আমি চিরকুমার-সভার সভ্য হব। কিন্তু আমার সঙ্গে পরিচিত একজন কাউকে চাই তো । তোমার বুঝি আর সভ্য হবার জো নেই ? অক্ষয়। না, আমি পাপ করেছি। তোমার দিদি আমার তপস্যা ভঙ্গ করে আমাকে স্বৰ্গ হতে বঞ্চিত করেছেন । শৈলবালা । তা হলে রসিকদাদাকে ধরতে হচ্ছে । তিনি তো কোনো সভার সভ্য না হয়েও চিরকুমার-ব্রত রক্ষা করেছেন। অক্ষয়। সভ্য হলেই এই বুড়োবয়সে ব্রতটি খোয়াবেন। ইলিশমাছ অমনি দিব্যি থাকে, ধরলেই মারা যায় ; প্রতিজ্ঞাও ঠিক তাই, তাকে বাধলেই তার সর্বনাশ । 0 রসিকের প্রবেশ A. রসিকদাদার সন্মুখের মাথায় টাক, গোক পাক, গৌরবর্ণ দীর্ঘাকৃতি অক্ষয়। ওরে পাষণ্ড, ভগু, অকালকুষ্মাণ্ড । রসিক। কেন হে মত্তমন্থর কুঞ্জকুঞ্জর পুঞ্জঅঞ্জনবর্ণ। অক্ষয়। তুমি আমার খালী-পুষ্পবনে দাবানল আনতে চাও? শৈলবালা। রসিকদাদা, তোমারই বা তাতে কী লাভ ।