প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা ১৭৩ বলে জ্ঞান করি নে। বুদ্ধিতে আমার এক জায়গায় ফুটাে আছে, কাব্য জমতে পারে না— ফস ফস করে বেরিয়ে পড়ে। তুমি জান আমার গাছে ফল কেন না ফলে— যেমনি ফুলটি ফুটে ওঠে আনি চরণতলে । কিন্তু, আমার প্রশ্নের তো কোনো উত্তর পেলুম না? কৌতুহলে মরে যাচ্ছি। কাশীতে যে চলেছ, উৎসাহটা কিসের জন্যে। আপাতত সেই বিষ্ণুদূতটাকে মনে মনে ক্ষম করলুম, কিন্তু ভগবান ভূতনাথ ভবানীপতির অনুচরগুলোর উপর ভারী সন্দেহ হচ্ছে । শুনেছি নন্দী ও ভৃঙ্গী অনেক বিষয়ে আমাকেও জেতে, ফিরে এসে হয়তো এই ভৃত্যটিকে পছন্দ না হতেও পারে। পুরবালা । আমি কাশী যাব না। অক্ষয়। সে কী কথা । ভূতভাবনের যে ভৃত্যগুলি একবার মরে ভূত হয়েছে তারা যে দ্বিতীয়বার মরবে । রসিকের প্রবেশ পুরবালা । আজ যে রসিকদার মুখ ভারী প্রফুল্ল দেখাচ্ছে । - রসিক। ভাই, তোর রসিকদার মুখের ওই রোগটা কিছুতেই ঘুচল না। কথা নেই বার্তা নেই প্রফুল্ল হয়েই আছে– বিবাহিত লোকের দেখে মনে মনে রাগ করে। পুরবালা। শুনলে তো বিবাহিত লোক ? এর একটা উপযুক্ত জবাব দিয়ে যাও। অক্ষয়। আমাদের প্রফুল্লতার খবর ও বৃদ্ধ কোথা থেকে জানবে ? সে এত রহস্যময় যে তা উদ্ভেদ করতে আজ পর্যন্ত কেউ পারলে না, সে এত গভীর যে আমরাই হাংড়ে খুজে পাই নে— হঠাৎ সন্দেহ হয় আছে কি না। পুরবালা। এই বুঝি ! [ রাগ করিয়া চলিয়া যাইবার উপক্রম অক্ষয় । ( তাহাকে ফিরাইয়া ) দোহাই তোমার, এই লোকটির সামনে রাগারগি কোরো না— তা হলে ওর আস্পর্ধা আরও বেড়ে যাবে। দেখো দাম্পত্যতত্ত্বানভিজ্ঞ বৃদ্ধ, আমরা যখন রাগ করি তখন স্বভাবত আমাদের কণ্ঠস্বর প্রবল হয়ে ওঠে, সেইটেই তোমাদের কর্ণগোচর হয় ; আর অনুরাগে যখন আমাদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে, কানের কাছে মুখ আনতে গিয়ে মুখ বারম্বার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়তে থাকে— তখন তো খবর পাও না । পুরবালা। আঃ, চুপ করে। অক্ষয় । যখন গয়নার ফর্দ হয় তখন বাড়ির সরকার থেকে সেকরা পর্যস্ত সেটা কারও অবিদিত থাকে না, কিন্তু বসন্তনিশীথে যখন প্রেয়সী—