প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা ❖ ዓፄ নীরবালা । মেজদিদি, তোমাকে ভাই জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু ওই চাপকানে বাধছে। মনে হচ্ছে তুমি যেন কোন রূপকথার রাজপুত্র, তেপান্তর মাঠ পেরিয়ে আমাদের উদ্ধার করতে এসেছ । নীরর সমুচ্চ কণ্ঠস্বরে আশ্বন্ত হইয়। নৃপও ঘরে প্রবেশ করিয়া মুগ্ধনেত্রে চাহিয়া রহিল নীরবালা । ( তাহাকে টানিয়া লইয়। ) আমন করে লোভীর মতে তাকিয়ে আছিস কেন । যা মনে করছিস তা নয়, ও তোর দুষ্মন্ত নয়— ও আমাদের মেজদিদি । রসিক। — ইয়মধিকমনোজ্ঞ চাপকানেনাপি তন্ত্রী কিমিব হি মধুরাণাং মণ্ডনং নাকৃতীনাম্। অক্ষয়। মূঢ়ে, তোরা কেবল চাপকানটা দেখেই মুগ্ধ। গিলটির এত আদর? এ দিকে যে খাটি সোনা দাড়িয়ে হাহাকার করছে। * নীরবালা । আজকাল খাটি সোনার দর যে বড়ে বেশি, আমাদের এই গিলটিই ভালো। কী বল ভাই মেজদিদি । শৈলর কৃত্রিম গোফট একটু পাকাইয়। দিল রসিক । ( নিজেকে দেখাইয়া ) এই খাটি সোনাটি খুব সস্তায় যাচ্ছে ভাই, এখনও কোনো ট্যাকশালে গিয়ে কোনো মহারানীর ছাপটি পর্যন্ত পড়ে নি । নীরবালা। আচ্ছ বেশ, সেজদিদিকে দান করলুম। ( রসিকদাদার হাত ধরিয়া নৃপর হাতে সমর্পণ করিল ) রাজি আছিস তো ভাই ? নৃপবালা । তা আমি রাজি আছি। রসিকদাদাকে একট। চৌকিতে বসাইয়। সে তাহার মাথার পাক চুল তুলির দিতে লাগিল নীর শৈলর কৃত্রিম গোফে তা দিয়া পাকাইয়। তুলিবার চেষ্টা করিতে লাগিল শৈলবালা। আঃ, কী করছিস, আমার গোফ পড়ে যাবে। রসিক। কাজ কী, এ দিকে আয়-না ভাই, এ গোফ কিছুতেই পড়বে না। নীরবালা। আবার ! ফের ! সেজদিদির হাতে সঁপে দিলুম কী করতে। আচ্ছ। রসিকদাদা, তোমার মাথার দুটাে-একটা চুল কাচা আছে, কিন্তু গোফ আগাগোড় পাকালে কী করে । রসিক। কারও কারও মাথা পাকবার আগে মুখটা পাকে। অক্ষয়। তা হলে আমি একবার চিরকুমার-সভার মাথায় হাত বুলিয়ে আসি । নীরবালা — গান জয়যাত্রায় যাও গো, ওঠে ওঠে। জয়রথে তব । মোরা জয়মালা গেথে অাশা চেয়ে বসে রব ।