প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Shré রবীন্দ্র-রচনাবলী বিপিন । আমরা এ সভার যোগ্য কি অযোগ্য কালেই তার পরিচয় হবে, কিন্তু কাজ করাও যদি আমাদের উদ্দেশ্য হয় তবে সেটা কোনো-এক সময়ে শুরু করা উচিত । আমার প্রশ্ন এই, কী করতে হবে । চন্দ্রবাবু। (উৎসাহিত হইয়া ) এই প্রশ্নের জন্য আমরা এতদিন অপেক্ষা করে ছিলাম, কী করতে হবে। এই প্রশ্ন যেন আমাদের প্রত্যেককে দংশন করে অধীর করে তোলে, কী করতে হবে। বন্ধুগণ, কাজই একমাত্র ঐক্যের বন্ধন। এক সঙ্গে যারা কাজ করে তারাই এক । এই সভায় আমরা যতক্ষণ সকলে মিলে একটা কাজে নিযুক্ত না হব ততক্ষণ আমরা যথার্থ এক হতে পারব না। অতএব বিপিনবাবু আজ এই-যে প্রশ্ন করছেন ‘কী করতে হবে, এই প্রশ্নকে নিবতে দেওয়া হবে না । সভ্যমহাশয়গণ, আপনারা উত্তর করুন কী করতে হবে । ঐশ । ( অস্থির হইয়া ) আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন ‘কী করতে হবে? আমি বলি আমাদের সকলকে সন্ন্যাসী হয়ে ভারতবর্ষের দেশে দেশে গ্রামে গ্রামে দেশহিতব্ৰত নিয়ে বেড়াতে হবে, আমাদের দলকে পুষ্ট করে তুলতে হবে, আমাদের সভাটিকে স্বক্ষ স্বত্র স্বরূপ করে সমস্ত ভারতবর্ষকে গেথে ফেলতে হবে । বিপিন ( হাসিয়া ) সে ঢের সময় আছে, যা কালই শুরু করা যেতে পারে এমন একটা-কিছু কাজ বলে। মারি তো গণ্ডার লুঠি তো ভাণ্ডার যদি পণ ক’রে বস তবে গণ্ডারও বাচবে, ভাণ্ডারও বাচবে, তুমিও যেমন আরামে আছ তেমনি আরামে থাকবে। আমি প্রস্তাব করি, আমরা প্রত্যেকে দুটি করে বিদেশী ছাত্র পালন করব, তাদের পড়াশুনো এবং শরীরমনের সমস্ত চর্চার ভার আমাদের উপর থাকবে । শ্ৰীশ । এই তোমার কাজ ! এর জন্যই আমরা সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করেছি ? শেষকালে ছেলে মানুষ করতে হবে । তা হলে নিজের ছেলে কী অপরাধ করেছে । বিপিন । ( বিরক্ত হইয়া ) তা যদি বল তা হলে সন্ন্যাসীর তো কর্মই নেই ; কর্মের মধ্যে ভিক্ষে আর ভ্ৰমণ আর ভণ্ডামি । শ্ৰীশ । ( রাগিয়া ) আমি দেখছি আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন এ সভার মহৎ উদ্দেশ্যের প্রতি র্যাদের শ্রদ্ধামাত্র নেই, তারা যত শীঘ্র এ সভা পরিত্যাগ করে সস্তানপালনে প্রবৃত্ত হন ততই আমাদের মঙ্গল । বিপিন। (আরক্তবর্ণ হইয়া) নিজের সম্বন্ধে কিছু বলতে চাই নে, কিন্তু এ সভায় এমন কেউ কেউ আছেন যারা সন্ন্যাসগ্রহণের কঠোরতা এবং সস্তানপালনের ত্যাগস্বীকার দুয়েরই অযোগ্য, তাদের— । চন্দ্রবাবু । ( চোখের কাছ হইতে কার্যবিবরণের খাতা নামাইয়া ) উত্থাপিত