প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা ১৯৭ চন্দ্রবাবু না, আজ আর সময় নেই— পূর্ণ। বেশি কিছু নয়, আমি বলছিলুম আমাদের সভা— চন্দ্রবাবু। সে কথা কাল হবে পূর্ণবাবু। পূর্ণ। কিন্তু কালই তো সভা বসছে— চন্দ্রবাবু আচ্ছা, তা হলে পরশু। আমার সময় নেই— পূর্ণ। দেখুন, অক্ষয়বাবু যে— চন্দ্রবাবু পূৰ্ণবাবু, আমাকে মাপ করতে হবে, আজ দেরি হয়ে গেছে – কিন্তু দেখো, আমার একটা কথা মনে হচ্ছিল যে, চিরকুমার-সভা যদি ক্রমে বিস্তীর্ণ হয়ে পড়ে তা হলে আমাদের সকল সভ্যই কিছু সন্ন্যাসী হয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন না, অতএব ওর মধ্যে দুটি বিভাগ রাখা দরকার হবে - পূর্ণ। স্থাবর এবং জঙ্গম। চন্দ্রবাবু। তা সে যে নামই দাও। তা ছাড়া অক্ষয়বাবু সেদিন একটি কথা যা বললেন সেও আমার মন্দ লাগল না। তিনি বলেন, চিরকুমার-সভার সংস্রবে আর একটি সভা রাখা উচিত যাতে বিবাহিত এবং বিবাহ-সংকল্পিত লোকদের নেওয়া যেতে পারে। গৃহী লোকদেরও তো দেশের প্রতি কর্তব্য আছে । সকলেরই সাধ্যমতে কোনো না কোনো হিতকর কাজে নিযুক্ত থাকতে হবে— এইটে হচ্ছে সাধারণ ব্ৰত । আমাদের এক দল কুমারব্রত ধারণ করে দেশে দেশে বিচরণ করবেন, একদল কুমারব্রত ধারণ করে এক জায়গায় স্থায়ী হয়ে বসে কাজ করবেন, আর-এক দল গৃহী নিজ নিজ রুচি ও সাধ্য -অমুসারে একটা কোনো প্রয়োজনীয় কাজ অবলম্বন করে দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করবেন । যারা পর্যটক-সম্প্রদায়ভুক্ত হবেন তাদের ম্যাপ-প্রস্তুত, জরিপ, ভূতত্ত্ববিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণীতত্ত্ব প্রভৃতি শিখতে হবে ; তারা যে দেশে যাবেন । সেখানকার সমস্ত তথ্য তন্ন তন্ন করে সংগ্রহ করবেন— তা হলেই ভারতবর্ষীয়ের দ্বারা ভারতবর্ষের যথার্থ বিবরণ লিপিবদ্ধ হবার ভিত্তি স্থাপিত হতে পারবে, হণ্টার সাহেবের উপরেই নির্ভর করে কাটাতে হবে না— পূর্ণ। চন্দ্রবাবু, যদি বসেন তা হলে একটা কথা— চন্দ্রবাবু না, আমি বলছিলুম, যেখানে যেখানে যাব সেখানকার ঐতিহাসিক জনশ্রুতি এবং পুরাতন পুথি সংগ্রহ করা আমাদের কাজ হবে ; শিলালিপি তাম্রশাসন এগুলোও সন্ধান করতে হবে— অতএব প্রাচীন-লিপি-পরিচয়টাও আমাদের কিছুদিন অভ্যাস করা আবশ্যক । পূর্ণ। সে-সব তো পরের কথা, আপাতত—