প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা - ২২৩ রসিক। নাম মনে হয় না মশায়, আমার ভাব মনে আসে, অভিধানে যত “ন’ আছে সমস্ত মাথার মধ্যে রাশীকৃত হয়ে উঠতে চাচ্ছে, ‘নয়ের মালা গেথে একটি নীলোৎপলনয়নার গলায় পরিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে— নির্মলনবনীনিন্দিতনবীন— বলুন-না শ্ৰীশবাবু, শেষ করে দিন-না— শ্ৰীশ । নবমল্লিক । রসিক। বেশ বেশ— নির্মলনবনীনিন্দিতনবীননবমল্লিকা। গীতগোবিন্দ মাটি হল । আরও অনেকগুলো ভালো ভালো ‘ন’ মাথার মধ্যে হাহাকার করে বেড়াচ্ছে, মিলিয়ে দিতে পারছি নে— নিভৃত নিকুঞ্জনিলয়, নিপুণনুপুরনিক্কণ, নিবিড়নীরদনিৰ্বমুক্ত— অক্ষয়দাদা থাকলে ভাবতে হত না । মাস্টারমশায়কে দেখবামাত্র ছেলেগুলো যেমন বেঞ্চে নিজ নিজ স্থানে সার বেঁধে বসে তেমনি অক্ষয়দাদার সাড়া পাবামাত্র কথাগুলো দৌড়ে এসে জুড়ে দাড়ায়।— শ্ৰীশবাবু, বুড়ো মানুষকে বঞ্চনা করে রুমালখানা চুপি চুপি পকেটে পুরবেন না— শ্ৰীশ । আবিষ্কারকর্তার অধিকার সকলের উপর— রসিক। আমার ওই রুমালথানিতে একটু প্রয়োজন আছে শ্ৰীশবাবু। আপনাকে তো বলেছি আমার নির্জন ঘরের একটিমাত্র জানলা দিয়ে একটুমাত্র চাদের আলো আসে, আমার একটি কবিতা মনে পড়ে— বীথীয়ু বীর্থযু বিলাসিনীনাং মুখানি সংবীক্ষ্য শুচিস্মিতানি জালেষু জালেষু করং প্রসার্য লাবণ্যভিক্ষণমটতীব চন্দ্রঃ । কুঞ্জ- পথে পথে চাদ উকি দেয় আসি, দেখে বিলাসিনীদের মুখভর হাসি । কর প্রসারণ করি ফিরে সে জাগিয়া বাতায়নে বাতায়নে লাবণ্য মাগিয়া । হতভাগা ভিক্ষুক আমার বাতায়নটায় যখন আসে তখন তাকে কী দিয়ে ভোলাই বলুন তো। কাব্যশাস্ত্রের রসালে জায়গা যা-কিছু মনে আসে সমস্ত আউড়ে যাই, কিন্তু কথায় চিড়ে ভেজে না । সেই দুর্ভিক্ষের সময় ওই রুমালখানি বড়ো কাজে লাগবে। ওঁতে অনেকটা লাবণ্যের সংস্রব আছে। ঐশ। সে লাবণ্য দৈবাৎ কখনো দেখেছেন রসিকবাৰু ?