প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


है'रे'ह” தி রৰীন্দ্র-রচনাবলী শৈলবালা। কী জানি বিপিনবাবু, আমার এই অবলাকাস্ত নামটাই মিথ্যে—কোনো অবলা তো এ পর্যন্ত আমাকে কান্ত বলে বরণ করে নি । বিপিন । হতাশ হবেন না, এখনও সময় আছে । শৈলবালা । সে অাশা এবং সে সময় যদি থাকত তা হলে চিরকুমার-সভায় নাম লেখাতে যেভূম না। বিপিন । (স্বগত) এর মনের মধ্যে একটা কী বেদন রয়েছে, নইলে এত অল্প বয়সে এই কাচামুখে এমন স্নিগ্ধ কোমল করুণ ভাব থাকত না । এটা কিসের খাতা। গান লেখা দেখছি। নীরবালা দেবী । ( পাঠ ) শৈলবালা। কী পড়ছেন বিপিনবাবু। বিপিন কোনো একটি অপরিচিতার কাছে অপরাধ করছি, হয়তে র্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবার সুযোগ পাব না এবং হয়তে র্তার কাছে শাস্তি পাবারও সৌভাগ্য হবে না, কিন্তু এই গানগুলি মানিক এবং হাতের অক্ষরগুলি মুক্তো। যদি লোভে পড়ে চুরি করি তবে দণ্ডদাতা বিধাত ক্ষমা করবেন। শৈলবালা । বিধাতা মাপ করতে পারেন, কিন্তু আমি করব না। ও খাতাটির পরে আমার লোভ আছে বিপিনবাবু। রসিক। আর, আমি বুঝি লোভ মোহ সমস্ত জয় করে বসে আছি ? আহ, হাতের অক্ষরের মতো জিনিস আর আছে ? মনের ভাব মূর্তি ধ’রে আঙুলের আগ দিয়ে বেরিয়ে আসে— অক্ষরগুলির উপর চোখ বুলিয়ে গেলে হৃদয়টি যেন চোখে এসে লাগে। অবলাকান্ত, এ খাতাখানি ছেড়ে না ভাই । তোমাদের চঞ্চলা নীরবালা দেবী কৌতুকের ঝরনার মতো দিনরাত ঝরে পড়ছে, তাকে তো ধরে রাখতে পার না, এই খাতাখানির পত্রপুটে তারই একটি গওয ভরে উঠেছে— এ জিনিসের দাম আছে। বিপিনবাবু, আপনি তো নীরবালাকে জানেন না, আপনি এ খাতাখানা নিয়ে কী করবেন । বিপিন । আপনার তো স্বয়ং তাকেই জানেন, খাতাখানিতে আপনাদের প্রয়োজন কী। এই খাতা থেকে আমি যেটুকু পরিচয় প্রত্যাশা করি তার প্রতি আপনার দৃষ্টি দেন কেন । শ্ৰীশের প্রবেশ - শ্ৰীশ । মনে পড়েছে মশায়। সেদিন এখানে একটা বইয়েতে নাম দেখেছিলেম, নৃপ বাল, নীরবালা— এ কী, বিপিন যে ! তুমি এখানে হঠাৎ ? বিপিন । তোমার সম্বন্ধেও ঠিক ওই প্রশ্নটা প্রয়োগ করা যেতে পারে।