প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર૭૦ - রবীন্দ্র-রচনাবলী গুচ্ছ চুল প্রায় চোখের উপরে এসে পড়েছিল – চাবির-গোচ্ছা-বাধা চু্যত অঞ্চলটি বা হাতে তুলে ধরে যখন দ্রুতবেগে চলে গেলেন তখন তার পিঠ-ভরা কালে চুল আমার দৃষ্টিপথের উপর দিয়ে একটি কালো জ্যোতিষ্কের মতো ছুটে নৃত্য করে চলে গেল । রসিক। এ তে নৃপবালাই বটে। পা দুখানি লজ্জিত, হাত দুখানি কুষ্ঠিত, চোখ দুটি ত্রস্ত, চুলগুলি কুঞ্চিত, দুঃখের বিষয় হৃদয়টি দেখতে পান নি— সে যেন ফুলের ভিতরকার লুকোনো মধুটুকুর মতে মধুর, শিশিরটুকুর মতো করুণ। শ্ৰীশ। রসিকবাবু, আপনার মধ্যে এত যে কবিত্বরস সঞ্চিত হয়ে রয়েছে তার উৎস কোথায় এবার টের পেয়েছি । Af রসিক। ধরা পড়েছি শ্ৰীশবাবু— কবীন্দ্রাণাং চেতঃ কমলবনমালাতপরুচিং ভজন্তে যে সন্তঃ কতিচিদরুণামেব ভবতীং । বিরিঞ্চিপ্রেয়স্তাস্তরুণতরশুঙ্গারলহরীং গভীরাভিবাগ ভির্বিদধতি সভারঞ্জনময়ীং । কবীন্দ্রদের চিত্তকমলবনমালার কিরণলেখা যে তুমি, তোমাকে যারা লেশমাত্র ভজন করে তারাই গভীর বাক্য দ্বারা সরস্বতীর সভারঞ্জনময়ী তরুণলীলালহরী প্রকাশ করতে পারে। আমি সেই কবিচিত্তকমলবনের কিরণলেখাটির পরিচয় পেয়েছি । শ্ৰীশ । আমিও অল্প দিন হল একটু পরিচয় পেয়েছি, তার পর থেকে কবিত্ব আমার পক্ষে সহজ হয়ে এসেছে । অক্ষয়ের প্রবেশ অক্ষয়। (স্বগত ) নাঃ, দুটি নবযুবকে মিলে আমাকে আর ঘরে তিষ্ঠতে দিলে ন৷ দেখছি । একটি তে গিয়ে চোরের মতো আমার ঘরের মধ্যে হাংড়ে বেড়াচ্ছিলেন – ধরা পড়ে ভালোরকম জবাবদিহি করতে পারলে না, শেষকালে আমাকে নিয়ে পড়ল । তার খানিক বাদেই দেখি দ্বিতীয় ব্যক্তিটি গিয়ে ঘরের বইগুলি নিয়ে উণ্টেপাল্টে নিরীক্ষণ করছে। তফাত থেকে দেখেই পালিয়ে এসেছি । বেশ মনের মতে করে চিঠিখানি যে লিখব এরা তা আর দিলে না – আহা, চমৎকার জ্যোৎস্না হয়েছে। শ্ৰীশ । এই-যে অক্ষয়বাবু। অক্ষয় । ওই রে । একটা ডাকাত ঘরের মধ্যে, আর একটা ডাকাত পথের ধারে । হা প্রিয়ে, তোমার ধ্যান থেকে যারা আমার মনকে বিক্ষিপ্ত করছে তারা মেনকা উর্বশী রম্ভ হলে আমার কোনো খেদ ছিল না— মনের মতো ধ্যানভঙ্গও অক্ষয়ের অদৃষ্টে নেই, কলিকালে ইন্দ্রদেবের বয়স বেশি হয়ে বেরসিক হয়ে উঠেছে।