প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী عد পৃথিবীর একটানা সবুজ উত্তরীয়, তারি এক ধারে ছেদ পড়েছে উত্তর দিকে, মাটি গেছে ক্ষ’য়ে, দেখা দিয়েছে উৰ্মিল লাল কঁাকরের নিস্তন্ধ তোলপাড়— মাঝে মাঝে মরচে-ধরা কালে মাটি মহিষাস্থরের মুণ্ড যেন । পৃথিবী আপনার একটি কোণের প্রাঙ্গণে বর্ষাধারার আঘাতে বানিয়েছে ছোটো ছোটো অখ্যাত খেলার পাহাড়, বয়ে চলেছে তার তলায় তলায় নামহীন খেলার নদী । শরৎকালে পশ্চিম-আকাশে সূর্যাস্তের ক্ষণিক সমারোহে রঙের সঙ্গে রঙের ঠেলাঠেলি— তখন পৃথিবীর এই ধুসর ছেলেমাহুষির উপরে দেখেছি সেই মহিমা যা একদিন পড়েছে আমার চোখে দুর্লভ দিনাবসানে রোহিত সমুদ্রের তীরে তীরে জনশূন্য তরুহীন পর্বতের রক্তবর্ণ শিখরশ্রেণীতে, রুষ্টরুদ্রের প্রলয়ক্রকুঞ্চনের মতে । এই পথে ধেয়ে এসেছে কালবৈশাখীর ঝড় গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে ঘোড়সওয়ার বর্গি সৈন্তের মতো— কঁাপিয়ে দিয়েছে শাল-সেগুনকে, কুইয়ে দিয়েছে ঝাউয়ের মাথা, হায়-হায় রব তুলেছে বাশের বনে, কলাবাগানে করেছে দুঃশাসনের দৌরাত্ম্য ।