প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা । ২৩৯ রসিক। বুঝেছি, সেটা মনে করলেও শরীর পুলকিত হয়। কিন্তু, বিধাতার বরে অপাত্র জিনিসটা অমর— দুটো গেলে আবার দশটা আসবে। বিপিন। এদের দুটোকে যদি ছলে বলে কিছুদিন ঠেকিয়ে রাখতে পারি তা হলে ভাববার সময় পাওয়া যাবে । রসিক। ভাববার সময় সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। এই শুক্রবারে তারা মেয়ে দেখতে আসবে । বিপিন । এই শুক্রবারে ? শ্ৰীশ । সে তো পরশু। রসিক। আজ্ঞে, পরশুই তো বটে। শুক্রবারকে তো পথের মধ্যে ঠেকিয়ে রাখা যায় না | - শ্ৰীশ । আচ্ছা, আমার একটা প্ল্যান মাথায় এসেছে। রসিক । কিরকম শুনি । শ্ৰীশ । সেই ছেলেতুটোকে বাড়ির কেউ চেনে ? রসিক । কেউ না । শ্ৰীশ । তারা বাড়ি চেনে ? রসিক । তাও না । শ্ৰীশ । তা হলে বিপিন যদি সেদিন তাদের কোনো রকম করে আটকে রাখতে পারে তো আমি তাদের নাম নিয়ে নৃপবালাকে— বিপিন জানই তো ভাই, আমার কোনো রকম কৌশল মাথায় আসে না। তুমি ইচ্ছে করলে কৌশলে ছেলেভুটােকে ভুলিয়ে রাখতে পারবে— আমি বরঞ্চ নিজেকে তাদের নামে চালিয়ে দিয়ে নীরবালাকে— রসিক। কিন্তু মশায়, এ স্থলে তো গৌরবে বহুবচন খাটবে না। দুটি ছেলে আসবার কথা আছে, আপনাদের একজনকে দুজন বলে চালানো আমার পক্ষে কঠিন হবে— শ্ৰীশ । ও, তা বটে । বিপিন। ই, সে কথা তুলেছিলেম। শ্ৰীশ । তা হলে তো আমাদের দুজনকেই যেতে হয়। কিন্তু— রসিক। সে দুটোকে ভুল রাস্তায় চালান করে দিতে আমিই পারব। কিন্তু, আপনারা— বিপিন। আমাদের জন্যে ভাববেন না রসিকবাবু। শ্ৰীশ । আমরা সব-তাতেই প্রস্তুত আছি।