প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা २४७ করবার সুযোগ পেয়েছিলুম, কিন্তু এতই অধম যে দগুনীয় বলেও গণ্য হলেম না, ক্ষম পাবার যোগ্যতাও লাভ করলেম না । রসিক। বিপিনবাবু, একেবারে হতাশ হবেন না। শাস্তি অনেক সময় বিলম্বে আসে, কিন্তু নিশ্চিত আসে। ফস করে মুক্তি না পেতেও পারেন। ভূত্যের প্রবেশ ভৃত্য ৷ জলখাবার তৈরি । [ নৃপবালা ও নীরবালার প্রস্থান ঐশ। আমরা কি দুর্ভিক্ষের দেশ থেকে আসছি রসিকবাবু। জলখাবারের জন্যে এত তাড়া কেন । রসিক। মধুরেণ সমাপয়েং। শ্ৰীশ । ( নিশ্বাস ফেলিয়া ) কিন্তু সমাপনটা তো মধুর নয়। ( জনাস্তিকে বিপিনের প্রতি ) কিন্তু বিপিন, এদের তো প্রতারণা করে যেতে পারব না । বিপিন। ( জনাস্তিকে ) তা যদি করি তবে আমরা পাষণ্ড । শ্ৰীশ । ( জনাস্তিকে ) এখন আমাদের কর্তব্য কী । বিপিন। ( জনান্তিকে ) সে কি আর জিজ্ঞাসা করতে হবে। রসিক। আপনারা দেখছি ভয় পেয়ে গেছেন । কোনো আশঙ্কা নেই, শেষকালে যেমন করেই হোক আমি আপনাদের উদ্ধার করবই। শ্ৰীশ ও বিপিন আহারে প্রবৃত্ত হইল ঘরের অন্ত দিকে অক্ষয় ও জগত্তারিণীর প্রবেশ জগত্তারিণী। দেখলে তো বাবা, কেমন ছেলে দুটি ? অক্ষয় । মা, তোমার পছন্দ ভালো, এ কথা তো অামি অস্বীকার করতে পারি নে। জগত্তারিণী । মেয়েদের রকম দেখলে তো বাবা ? এখন কান্নাকাটি কোথায় গেছে তার ঠিক নেই । অক্ষয় । ওই তো ওদের দোষ। কিন্তু মা, তোমাকে নিজে গিয়ে আশীৰ্বাদ ক’রে ছেলেদুটিকে দেখতে হচ্ছে। জগত্তারিণী । সে কি ভালো হবে অক্ষয় । ওরা কি পছন্দ জানিয়েছে । অক্ষয়। খুব জানিয়েছে। এখন তুমি নিজে এসে আশীৰ্বাদ করে গেলেই চটুপটু স্থির হয়ে যায়। জগত্তারিণী । তা বেশ, তোমরা যদি বল, তা যাব, আমি ওদের মার বয়সী— আমার লজ্জা কিসের ।