প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩২৬ রবীন্দ্র-রচনাবলী । ধবধবে চাদর পাতিয়া নিজের হাতে বিছানা করিয়া শয়ন করিতাম ; একখানি অনাবৃত বাহু কোমল বিছানার উপরে যেন অনাদরে মেলিয়া দিয়া ভাবিতাম, এই হাতখানি এমনি ভঙ্গিতে কে যেন দেখিতে পাইল, কে যেন দুইখানি হাত দিয়া তুলিয়া লইল, কে যেন ইহার আরক্ত করতলের উপর একটি চুম্বন রাখিয়া দিয়া আবার ধীরে ধীরে ফিরিয়া যাইতেছে — মনে করে। এইখানেই গল্পটা যদি শেষ হয় তাহা হইলে কেমন হয়।’ আমি বলিলাম, মন্দ হয় না। একটু অসম্পূর্ণ থাকে বটে, কিন্তু সেইটুকু আপন মনে পূরণ করিয়া লইতে বাকি রাতটুকু বেশ কাটিয়া যায়।’ কিন্তু তাহা হইলে গল্পটা যে বড়ো গম্ভীর হইয় পড়ে। ইহার উপহাসটুকু থাকে কোথায়। ইহার ভিতরকার কঙ্কালটা তাহার সমস্ত দাত ক’টি মেলিয়া দেখা দেয় কই । তার পরে শোনো । একটুখানি পসার হইতেই আমাদের বাড়ির এক তলায় ডাক্তার তাহার ডাক্তারখানা খুলিলেন। তখন আমি তাহাকে মাঝে মাঝে হাসিতে হাসিতে ঔষধের কথা, বিষের কথা, কী করিলে মানুষ সহজে মরে, এই-সকল কথা জিজ্ঞাসা করিতাম। ডাক্তারির কথায় ডাক্তারের মুখ খুলিয়া যাইত। শুনিয়া শুনিয়া মৃত্যু যেন পরিচিত ঘরের লোকের মতো হইয়া গেল। ভালোবাসা এবং মরণ কেবল এই দুটোকেই পৃথিবীময় দেখিলাম। ‘আমার গল্প প্রায় শেষ হইয়া আসিয়াছে— আর বড়ো বাকি নাই।’ আমি মৃদুস্বরে বলিলাম, রাত্রিও প্রায় শেষ হইয়া আসিল । কিছুদিন হইতে দেখিলাম ডাক্তারবাবু বড়ো অন্যমনস্ক এবং আমার কাছে যেন ভারী অপ্রতিভ। একদিন দেখিলাম তিনি কিছু বেশিরকম সাজসজ্জা করিয়া দাদার কাছে র্তাহার জুড়ি ধার লইলেন, রাত্রে কোথায় যাইবেন। ‘আমি আর থাকিতে পারিলাম না । দাদার কাছে গিয়া নানা কথার পর জিজ্ঞাসা করিলাম, ই দাদা, ডাক্তারবাবু আজ জুড়ি লইয়া কোথায় যাইতেছেন। ‘সংক্ষেপে দাদা বলিলেন, মরিতে । ‘আমি বলিলাম, না, সত্য করিয়া বলো-না ! তিনি পূর্বাপেক্ষ কিঞ্চিং খোলসা করিয়া বলিলেন, বিবাহ করিতে। ‘আমি বলিলাম সত্য নাকি।— বলিয়া অনেক হাসিতে লাগিলাম । অল্পে অল্পে শুনিলাম এই বিবাহে ডাক্তার বারো হাজার টাকা পাইবেন। “কিন্তু আমার কাছে এ সংবাদ গোপন করিয়া আমাকে অপমান করিবার তাৎপর্য কী। আমি কি তাহার পায়ে ধরিয়া বলিয়াছিলাম যে, এমন কাজ করিলে আমি বুক