প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૨ রবীন্দ্র-রচনাবলী সিন্দুকে তোল ছিল সবগুলি বাহির করিয়া পরিলাম— সিথিতে বড়ো করিয়া সি দুর দিলাম। আমার সেই বকুলতলায় বিছানা পাতিলাম । ‘বড়ো সুন্দর রাত্রি । ফুটফুটে জ্যোৎস্বা। সুপ্ত জগতের ক্লাস্তি হরণ করিয়া দক্ষিনে বাতাস বহিতেছে। জুই আর বেল ফুলের গন্ধে সমস্ত বাগান আমোদ করিয়াছে । বাশির শব্দ যখন ক্রমে দূরে চলিয় গেল, জ্যোৎস্না যখন অন্ধকার হইয়া আসিতে লাগিল, এই তরুপল্লব এবং আকাশ এবং আজন্মকালের ঘর-দুয়ার লইয়া পৃথিবী যখন আমার চারি দিক হইতে মায়ার মতে মিলাইয়। যাইতে লাগিল তখন আমি নেত্র নিমীলন করিয়া হাসিলাম । ইচ্ছা ছিল যখন লোকে আসিয়া আমাকে দেখিবে তখন এই হাসিটুকু যেন রঙিন নেশার মতো আমার ঠোটের কাছে লাগিয়া থাকে। ইচ্ছা ছিল যখন আমার অনন্তরাত্রির বাসরঘরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করিব তখন এই হাসিটুকু এখান হইতেই মুখে করিয়া লইয়া যাইব । কোথায় বাসরঘর । আমার সে বিবাহের বেশ কোথায় । নিজের ভিতর হইতে একটা খট্‌খটু শব্দে জাগিয়া দেখিলাম, আমাকে লইয়া তিনটি বালক অস্থিবিদ্যা শিখিতেছে। বুকের যেখানে স্থখদুঃখ ধুকধুক্‌ করিত এবং যৌবনের পাপড়ি প্রতিদিন একটি একটি করিয়া প্রস্ফুটিত হইত সেইখানে বেত্র নির্দেশ করিয়া কোন অস্থির কী নাম মাস্টার শিখাইতেছে। আর সেই-যে অস্তিম হাসিটুকু ওষ্ঠের কাছে ফুটাইয়া তুলিয়াছিলাম তাহার কোনো চিহ্ন দেখিতে পাইয়াছিলে কি — ‘গল্পটা কেমন লাগিল |’ আমি বলিলাম, ‘গল্পটি বেশ প্রফুল্লকর । এমন সময় প্রথম কাক ডাকিল। জিজ্ঞাসা করিলাম, এখনো আছ কি ? কোনো উত্তর পাইলাম না। ঘরের মধ্যে ভোরের আলো প্রবেশ করিল। ফাল্গুন ১২৯৮