প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ । \ల\లి) 8 k ফকির তাড়াতাড়ি নিকটবর্তী এক গৃহে প্রবেশ করিল। বৃদ্ধ গৃহস্বামী চুপচাপ বসিয়া তামাক টানিতেছিল। ফকিরকে ঘরে ঢুকিতে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে হে তুমি ।’ \, ফকির । বাবা, আমি সন্ন্যাসী । বৃদ্ধ । সন্ন্যাসী ! দেখি দেখি বাবা, আলোতে এসে দেখি । এই বলিয়া আলোতে টানিয়া লইয়া ফকিরের মুখের পরে ঝুকিয়া বুড়ামানুষ বহুকষ্টে যেমন করিয়া পুথি পড়ে তেমনি করিয়া ফকিরের মুখ নিরীক্ষণ করিয়া বিড় বিড় করিয়া বকিতে লাগিল— ‘এই তো আমার সেই মাখনলাল দেখছি । সেই নাক, সেই চোখ, কেবল কপালট বদলেছে, আর সেই চাদমুখ গোফে দাড়িতে একেবারে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।’ বলিয়া বৃদ্ধ সক্ষেহে ফকিরের শ্মশ্রল মুখে দুই-একবার হাত বুলাইয়া লইল এবং প্রকাশ্বে কহিল, ‘বাবা মাখন ’ বলা বাহুল্য বৃদ্ধের নাম ষষ্ঠীচরণ। ফকির । ( সবিস্ময়ে ) মাখন ! আমার নাম তো মাখন নয়। পূর্বে আমার নাম যাই থাকৃ, এখন আমার নাম চিদানন্দস্বামী । ইচ্ছা হয় তো পরমানন্দও বলতে পারে । ষষ্ঠ । বাবা, তা এখন আপনাকে চিড়েই বল আর পরমান্নই বল, তুই যে আমার মাখন, বাবা, সে তো আমি ভুলতে পারব না — বাবা, তুই কোন দুঃখে সংসার ছেড়ে গেলি। তোর কিসের অভাব । দুই স্ত্রী— বড়োটিকে না ভালোবাসিস, ছোটোটি আছে। ছেলেপিলের দুঃখও সেই। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে সাতটি কন্তে, একটি ছেলে । আর আমি, বুড়ো বাপ, ক দিনই বা বঁচিব— তোর সংসার তোরই থাকবে । ফকির একেবারে অঁাংকিয়া উঠিয়া কহিল, কী সর্বনাশ । শুনলেও যে ভয় হয়। এতক্ষণে প্রকৃত ব্যাপারটা বোধগম্য হইল। ভাবিল, ‘মন্দ কী, দিন-দুই বৃদ্ধের পুত্রভাবেই এখানে লুকাইয়া থাকা যাক, তাহার পরে সন্ধানে অকৃতকার্য হইয়া বাপ চলিয়া গেলেই এখান হইতে পলায়ন করিব।” ফকিরকে নিরুত্তর দেখিয়া বৃদ্ধের মনে আর সংশয় রহিল না। কেষ্ট চাকরকে ডাকিয়া বলিল, ‘ওরে ও কেষ্ট, তুই সকলৰে খবর দিয়ে আয় গে, আমার মাখন ফিরে এসেছে ?