প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


હ88 রবীন্দ্র-রচনাবলী বঁশিতে তবু তো আজ আনন্দের স্বর উঠেছে, এ কথা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। মানুষকে তে মানুষ এমন করে ডাকে, বলে, চল ভাই, আনন্দ করবি চল। এই নিয়মের রাজ্যে এমন কথাটা তার মুখ দিয়ে বের হয় কেন । * সে দেখতে পাচ্ছে, নিয়মের কঠিন দণ্ড একেবারে অটল হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে ; কিন্তু তাকে জড়িয়ে জড়িয়ে তাকে আচ্ছন্ন ক'রে যে লতাটি উঠেছে তাতে কি আমরা কোনো ফুল ফুটতে দেখি নি ? দেখি নি কি কোথাও ঐ এবং শাস্তি, সৌন্দর্য এবং ঐশ্বর্য ? দেখছি নে কি প্রাণের লীলা, গতির নৃত্য, বৈচিত্র্যের অজস্রতা ? ' বিশ্বের নিয়ম সোজা হয়ে দাড়িয়ে নিজেকেই চরম রূপে প্রচার করছে না— একটি অনির্বচনীয়ের পরিচয় তাকে চারি দিকে আচ্ছন্ন করে প্রকাশ পাচ্ছে । সেই জন্যেই যে উপনিষৎ একবার বলেছেন অমোঘ শাসনের ভয়ে যা-কিছু সমস্ত চলেছে তিনিই আবার বলেছেন : আনন্দাদ্ধোব খন্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে। আনন্দ থেকেই এই যা-কিছু সমস্ত জন্মাচ্ছে। যিনি আনন্দস্বরূপ, মুক্ত, তিনিই নিয়মের বন্ধনের মধ্য দিয়ে দেশকালে আপনাকে প্রকাশ করছেন । কবির মুক্ত আনন্দ আপনাকে প্রকাশ করবার বেলায় ছন্দের বাধন মানে । কিন্তু, যে লোকের নিজের মনের মধ্যে ভাবের উদবোধন হয় নি সে বলে, এর মধ্যে আগাগোড়া কেবল ছন্দের ব্যায়ামই দেখছি। সে নিয়ম দেখে, নৈপুণ্য দেখে, কেননা সেইটেই চোখে দেখা যায় ; কিন্তু যাকে অন্তর দিয়ে দেখা যায় সেই রসকে সে বোঝে না, সে বলে রস কিছুই নেই। সে মাথা নেড়ে বলছে, সমস্তই যন্ত্র, কেবল বৈজ্ঞানিক নিয়ম | কিন্তু, ওই-যে কার উচ্ছসিত কণ্ঠ এমন নিতান্ত সহজ স্বরে বলে উঠেছে ; রসে বৈ সঃ । কবির কাব্যে তিনি যে অনন্ত রস দেখতে পাচ্ছেন। জগতের নিয়ম তো তার কাছে আপনার বন্ধনের রূপ দেখাচ্ছে না। তিনি যে একেবারে নিয়মের চরমকে দেখে আনন্দে বলে উঠেছেন : আনন্দান্ধ্যেব খন্বিমানি ভূতানি জায়স্তে । জগতে তিনি ভয়কে দেখছেন না, আনন্দকেই দেখছেন। সেই জন্যেই বলছেন ; আনন্দং ব্রহ্মণো বিস্তান ন বিভেতি কুতশন। ব্রহ্মের আনন্দকে যিনি সর্বত্র জানতে পেরেছেন তিনি আর কিছুতেই ভয় পান না। এমনি করে জগতে আনন্দকে দেখে প্রত্যক্ষ ভয়কে যিনি একেবারেই অস্বীকার করেছেন তিনিই বলেছেন : মহা ভয়ং বজ্ৰমুষ্ঠতং য এতৎ বিকুরমৃত্যস্তে ভবস্তি । এই মহা ভয়কে, এই উষ্ঠত বজকে র্যারা জানেন তাদের আর মৃত্যুভয় থাকে না। যারা জেনেছে, ভয়ের মধ্য দিয়েই অভয়, নিয়মের মধ্য দিয়েই আনন্দ আপনাকে