প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SbrUs রবীন্দ্র-রচনাবলী শিথিল হয়ে বিশ্লিষ্ট হয়ে একটা আকার-আয়তন-হীন কদৰ্যতায় পরিণত হত। সংসারের মাঝখানে সেই ভীষণের রুদ্রলীলা চলছে বলেই তার দুঃসহ দীপ্ততেজে অভাব থেকে পূর্ণতা, অসাম্য থেকে সামঞ্জস্য, বর্বরতা থেকে সভ্যতা অনিবার্যবেগে উদগত হয়ে উঠছে ; তারই ভয়ংকর পেষণ-ঘর্ষণে রাজ্যসাম্রাজ্য শিল্পসাহিত্য ধর্মকর্ম উত্তরোত্তর নব নব উৎকর্ষ লাভ করে জেগে উঠছে। এই সংসারের মাঝখানে মহম্ভয়ং বজ্ৰমুস্ততং ; কিন্তু এই মহদ্ভয়কে যারা সত্য করে দেখেন তারা আর ভয়কে দেখেন না, তারা মহাসৌন্দর্যকেই দেখেন। তারা অমৃতকেই দেখেন যা এতদবিদ্যুরমূতাস্তে ভবস্তি । অনেকে এমনভাবে বলেন, যেন প্রকৃতির আদর্শ মানুষের পক্ষে জড়ত্বের আদর্শ ; যেন যা আছে তাই নিয়েই প্রকৃতি ; প্রকৃতির মধ্যে উপরে ওঠবার কোনো বেগ নেই ; সেইজন্যেই মানবপ্রকৃতিকে বিশ্বপ্রকৃতি থেকে পৃথক্ করে দেখবার চেষ্টা হয় । কিন্তু, আমরা তো প্রকৃতির মধ্যে একটা তপস্তা দেখতে পাচ্ছি ; সে তো জড়যন্ত্রের মতো একই বাধা নিয়মের খোটাকে অনন্তকাল অন্ধভাবে প্রদক্ষিণ করছে না । এ পর্যন্ত তাকে তো তার পথের কোনো জায়গায় থেমে থাকতে দেখি নি । সে তার আকারহীন বিপুল বাষ্পসংঘাত থেকে চলতে চলতে আজ মামুষে এসে পৌচেছে, এবং এখানেই যে তার চলা শেষ হয়ে গেল এমন মনে করবার কোনো হেতু নেই। ইতিমধ্যে তার অবিরাম চেষ্টা কত গড়েছে এবং কত ভেঙে ফেলেছে, কত ঝড় কত প্লাবন কত ভূমিকম্প কত অগ্নি-উচ্ছ্বাসের বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে তার বিকাশ পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। আতপ্ত পঙ্কের ভিতর দিয়ে একদিন কত মহারণ্যকে সে তখনকার ঘনমেঘাবৃত আকাশের দিকে জাগিয়ে তুলেছিল, আজ কেবল কয়লার খনির ভাণ্ডারে তাদের অস্পষ্ট ইতিহাস কালো অক্ষরে লিখিত রয়েছে। যখন তার পৃথিবীতে জলস্থলের সীমা ভালো করে নির্ণীত হয় নি তখন কত বৃহৎ সরীস্বপ কত অদ্ভূত পাখি কত আশ্চর্ষ জন্তু কোন নেপথ্যগৃহ থেকে এই স্বষ্টিরঙ্গভূমিতে এসে তাদের জীবলীল সমাধা করেছে, আজ তারা অধরাত্রির একটা অদ্ভূত স্বপ্নের মতো কোথায় মিলিয়ে গেছে। কিন্তু প্রকৃতির সেই উৎকর্ষের দিকে অভিব্যক্ত হবার অবিশ্রাম কঠোর চেষ্টা, সে থেমে তো যায় নি। থেমে যদি যেত তা হলে এখনই ষা-কিছু সমস্তই বিশ্লিষ্ট হয়ে একটা আদিঅন্তহীন বিশৃঙ্খলতায় স্ত,পাকার হয়ে উঠত। প্রকৃতির মধ্যে একটি অনিজ অভিপ্রায় কেবলই তাকে তার ভাবী উৎকর্ষের দিকে কঠিন বলে আকর্ষণ করে চলেছে বলেই তার বর্তমান এমন একটি অব্যর্থ শৃঙ্খলার মধ্যে আপনাকে প্রকাশ করতে পারছে। কেবলই তাকে সামঞ্জস্তের বন্ধন ছিন্ন ক’রে করেই এগোতে হচ্ছে, কেবলই তাকে গর্ভাবরণ বিদীর্ণ করে নব নব জন্মে প্রবৃত্ত হতে হচ্ছে। এইজপ্তেই এত দুঃখ, এত মৃত্যু। কিন্তু,