প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


·8$• রৰীক্স-রচনাবলী শিশু যখন চলতে গিয়ে পড়ছে তখন যেমন তাকে বারম্বার পতনসত্বেও চলার অভ্যাস করতে দেওয়া হয়, কারণ সকলেই জানে পড়াটাই তার চরম নয়, সেইরকম প্রত্যহ সত্যলোকে ব্রহ্মলোকে চলার অভ্যাস মানুষকে করতেই হবে। কোনো আলস্য কোনো ক্লেশে নিরস্ত হলে চলবে না। প্রত্যহ তার কাছে যাওয়া, তাকে চিন্তা করা, স্মরণ করা, এইটেই হচ্ছে পন্থা । সংসারে যতই বাধা থাকি-না কেন তবু সমস্ত থগুত সমস্ত অনিত্যের মধ্যে সেই অনন্ত সত্যকে স্বীকার করার দ্বারা মানুষ আপনার আত্মাকে সম্মান করে । বিষয়ের দাসত্ব যতই করি তবু সেইটেই পরম সত্য নয়, প্রতিদিন এই কথা মানুষকে কোনোএক সময় স্বীকার করতেই হবে। সত্য জ্ঞানমনস্তং ব্রহ্ম এই কথাই সত্য, এবং এই সত্যেই আমি সত্য ; ধনজনমানের দ্বারা আমি সত্য নই। আমি সত্যলোকে জ্ঞানলোকে বাস করি, আমি ব্রহ্মলোকে প্রাতষ্ঠিত। আমার প্রতিদিনের ব্যবহারে আমি এ কথার সম্পূর্ণ সমর্থন এখনও করতে পারছি নে ; তবু মানুষকে এক দিকে আকাশে মাথা তুলে এবং এক দিকে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে বলতে হবে যে, সত্যং জ্ঞানমনস্তং ব্রহ্ম এই কথাই সত্য। এই সত্য, এই সত্য, এই সত্য— প্রতিদিন বলতে হবে ; বিমুখ মনকেও বলাতে হবে ; ক্ষীণ কণ্ঠকেও উচ্চারণ করাতে হবে। নিয়ত বলতে বলতে আমরা যে সত্যলোকে বাস করছি এই বোধটি ক্রমশই আমাদের কাছে সহজ হয়ে আসবে। তখন অর্ধচেতন অবস্থায় দিন কাটবে না, তখন বারবার ধুলোর উপর পড়ে পড়ে যাব না, তখন আলোর দিকে আকাশের দিকে মাথা তুলে চলতে শিখব ; তখন বাইরের সমস্ত বস্তুকেই আমার আত্মার চেয়ে বড়ো করে জানব না, এবং প্রবৃত্তির প্রবল উত্তেজনাকেই প্রকৃত আত্মপরিচয় বলে মনে করব না । ব্ৰহ্মকে সহজ করে জানবার শক্তিই আমাদের সত্যকার শক্তি ; সেই শক্তি আমাদের আছে ; জানতে পারছি নে বলে সে শক্তিকে কখনোই অস্বীকার করব না । বারবার তাকে ডাকতে হবে, বারবার তাকে বলতে হবে, এই তুমি, এই তুমি, এই তুমি। এই তুমি আমার সম্মুখেই, এই তুমি আমার অন্তরেই। এই তুমি আমার প্রতি মুহূর্তে, এই তুমি আমার অনন্ত কালে । বলতে বলতে র্তার নামে আমার সমস্ত শরীর বাজতে থাকবে, আমার মন বাজতে থাকবে, আমার বাহির বাজতে থাকবে, আমার সংসার বাজতে থাকবে । আমার চিত্ত বলবে সত্যং, আমার বিশ্বচরাচর বলবে সত্যং । ক্রমে আমার প্রতি দিনের প্রত্যক কৰ্ম বলতে থাকবে সত্যং বেহালা যন্ত্র যতই পুরাতন হয় ততই তার মূল্য বেশি হয় তার কারণ, অনেক দিন থেকে স্বর বাজতে বাজতে বেহালার কাঠফলকের পরমাণুগুলি স্বরের ছন্দে ছন্দে স্থবিম্ভন্ত হয়ে ওঠে, 棣