প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ऑडिमेिरकउम 8३e কিন্তু সত্যকে আমরা হাজার অস্বীকার করলেও সত্যকে তো আমরা বিনাশ করতে পারি নে। আমাদের অস্তরের সত্য মানুষটিকে আমরা যে চিরদিনই কেবল অদ্ভুক্ত রেখে দিচ্ছি, তার দুর্গতি তো কোনো আরামে কোনো আড়ম্বরে চাপা পড়ে না। আমরা যার সেবা করি সে তো আমাদের বাচায় না, আমরা যার ভোগের সামগ্রী জুগিয়ে চলি সে তো আমাদের এমন একটি কড়িও ফিরিয়ে দেয় না যাকে আমাদের চিরানন্দপথের সম্বল বলে বুকের কাছে যত্ন করে জমিয়ে রেখে দিতে পারি। আরামের পর্দা ছিন্ন করে ফেলে দুঃখের দিন তো বিনা আহবানে আমাদের সুসজ্জিত ঘরের মাঝখানে হঠাৎ এসে দাড়ায়, তখন তো বুকের রক্ত দিয়েও তার দাবি নিঃশেষে চুকিয়ে মিটিয়ে দিতে পারি নে ; আর অকস্মাৎ বঞ্জের মতো মৃত্যু এসে আমাদের সংসারের মৰ্মস্থানের মাঝখানটায় যখন মস্ত একটা ফাক রেখে দিয়ে যায় তখন রাশি রাশি ধনজনমান দিয়ে ফাক তো কিছুতে ভরিয়ে তুলতে পারি নে। যখন এক দিকে ভার চাপতে চাপতে জীবনের সামঞ্জস্য নষ্ট হয়ে যায়, যখন প্রবৃত্তির সঙ্গে প্রবৃত্তির ঠেকাঠেকি হতে থাকে, অবশেষে ভিতরে ভিতরে পাপের উত্তাপ বাড়তে বাড়তে একদিন যখন বিনাশের দাবানল দাউ দাউ করে জলে ওঠে, তখন লোকজন সৈন্যসামন্ত কাকে ডাকব যে তার উপরে এক ঘড়াও জল ঢেলে দিতে পারে। মূঢ়, কাকে প্রবল করে তুমি বলী হলে, কাকে ধনদান করে তুমি ধনী হতে পারলে, কাকে প্রতিদিন রক্ষা করে করে তুমি চিরদিনের মতো বেঁচে গেলে ? আমাদের অস্তরের সত্য মানুষটি কোন আশ্রয়ের জন্তে পথ চেয়ে আছে ? আমরা এতদিন ধরে তাকে কোন ভরসা দিয়ে এলুম ? বাহিরের বৈঠকখানায় আমরা ঝাড়লনঠন খাটিয়ে দিলুম, কিন্তু অস্তরের ঘরের কোণটিতে আমরা সন্ধ্যার প্রদীপ জালালুম না। রাত্রি গভীর হল, অন্ধকার নিবিড় হয়ে এল, সেই তার একলা ঘরের নিবিড় অন্ধকারের মাঝখানে ধুলায় বসে সে যখন কেঁদে উঠল আমরা তখন প্রহরে প্রহরে কী বলে তাকে আশ্বাস দিলুম। וי তার সেই মৰ্মভেদী রোদনে আমাদের নিশীথরাত্রির প্রমোদসভায় যখন ক্ষণে ক্ষণে আমাদের বড়োই ব্যাঘাত করতে লাগল, আমাদের মত্ততার মাঝখানে তার সেই গভীর ক্ৰন্দন আমাদের নেশাকে যখন ক্ষণে ক্ষণে ছুটিয়ে দেবার উপক্রম করলে, তখন আমরা তাকে কোনোমতে থামিয়ে রাখবার জন্তে তার দরজার বাহিরে দাড়িয়ে উচ্চ কণ্ঠে তাকে বলে এসেছি ; ভয় নেই তোমার, আমি আছি। মনে করেছি, এই বুঝি তার সকলের চেয়ে বড়ো অভয়মন্ত্র যে ‘আমি আছি । নিজের সমস্ত ধনসম্পদ মানমর্যাদাকে একটা মমতার স্বত্রে জপমালার মতো গেথে ফেলে তার হাতে