প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


"8રં8 রবীন্দ্র-রচনাবলী দিয়ে বলেছি : এইটেকেই তুমি দিনরাত্রি বারবার করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কেবলই একমনে জপ করতে থাকো অামি আমি অামি । আমি সত্য, আমি বড়ো, আমি প্রিয় । তাই নিয়ে সে জপছে বটে ; আমি আমি আমি । কিন্তু, তার চোখ দিয়ে জল পড়া আর কিছুতেই থামছে না। তার ভিতরকার এ কোন একটা মহাবিষাদ অশ্রুবিন্দুর গুটি ফিরিয়ে ফিরিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই জপে যাচ্ছে ; না না না, নয় নয় নয়। কোন তাপসিনীর করুণবীণায় এমন উদাস-করা ভৈরবীর সুরে সমস্ত আকাশকে কাদিয়ে কাদিয়ে তুলছে : ব্যর্থ হল, ব্যর্থ হল রে, সকালবেলাকার আলোক ব্যর্থ হল, রাত্রিবেলাকার স্তন্ধত ব্যর্থ হল ; মায়াকে খুজিলুম, ছায়াকে পেলুম, কোথাও কিছুই ধর দিল না । ওরে মত্ত, কোন মাভৈঃ বাণীটির জন্যে আমার এই অস্তরের একলা মানুষ এমন উৎকণ্ঠিত হয়ে কান পেতে রয়েছে ? সে হচ্ছে চিরদিনের সেই সত্য বাণী ; পিতা নোহসি, পিতা তুমিই আছ। তুমি আছ, পিতা, তুমি আছ, আমাদের পিতা তুমি আছ : এই বাণীতেই সমস্ত শূন্ত ভরে গেল, সমস্ত ভার সরে গেল, কোনো ভয় আর কোথাও রইল না । আর ওটা কী ভয়ানক মিথ্যা, ওই-যে আমি আছি ! কই আছ, তুমি আছ কোথায়! তুমি ভবসমুদ্রের কোন ফেনাগুলাকে আশ্রয় করে বলছ আমি আছি । যে বুদবুদটি যখনই ফেটে যাচ্ছে তাতে তখনই তোমারই ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। সংসারে দীর্ঘনিশ্বাসের যে লেশমাত্র তপ্ত হাওয়াটুকু তোমার গায়ে এসে লাগছে তাতে একেবারে তোমার সত্তাকেই গিয়ে ঘা দিচ্ছে। তুমি আছ কিসের উপরে। তুমি কে। অথচ আমার অন্তরের মানুষ যখন বলছে চাই তখন তুমি অহংকার করে তাকে গিয়ে বলছ ; আমি আছি, তুমি আমাকেই চাও, তুমি আমাকে নিয়েই খুশি থাকে। এ তোমার কেমন দান ! তোমার প্রকাও বোঝা বইবে কে । এ যে বিষম ভার। এ যে কেবলই বস্তুর পরে বস্তু, কেবলই ক্ষুধার পরে ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরে দুর্ভিক্ষ । এ তো তোমাকে আশ্রয় করা নয়, এ যে তোমাকে বহন করা । তুমি যে পঙ্গু, তোমার যে পা নেই, তুমি যে কেবলই অন্যের উপরেই ভর দিয়ে সংসারে চলে বেড়াও । তোমার এ বোঝা যেখানকার সেইখানেই পড়ে পড়ে ধুলোর সঙ্গে ধুলো হয়ে যেতে থাক্‌! যে মানুষটি যাত্রী, যে পথের পথিক, আনন্তের অভিমুখে যার ডাক আছে, সে তোমার এই ভার টেনে টেনে বেড়াবে কেন । এই-সমস্ত বোঝার উপর দিনরাত্রি বুক দিয়ে চেপে পড়ে থাকবে সে