প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শান্তিনিকেতন 88S সত্যকে স্বন্দরকে দেখবার দিন এখনও হয়তো আসে নি। আপনাকে একেবারে ভুলিয়ে দেয়, সমস্ত স্বার্থকে পরমার্থের মধ্যে মিলিয়ে তোলে, এমন বৃহৎ আনন্দের হিল্লোল অন্তরের মধ্যে জাগে নি। কিন্তু তবুও তিন শো পয়ষটি দিনের মধ্যে অন্তত একটি দুিকেও আমরা পৃথক করে রাখি, আমাদের সমস্ত অন্তমনস্কতার মাঝখানেই আমাদের পূজার প্রদীপটি জালি, আসনটি পাতি, সকলকে ডাকি, যে যেমন ভাবে আসে আস্থক, যে যেমন ভাবে ফিরে যায় ফিরে যাক । কেননা, এ তো আমাদের কারও একলার সামগ্রী নয় ; আজ আমাদের কণ্ঠ হতে যে স্তবসংগীত উঠবে সে তো কারও একলা কণ্ঠের বাণী নয় ; জীবনের পথে সম্মুখের দিকে যাত্রা করতে করতে মানুষ নানা ভাষায় যার নাম ডেকেছে, যে নাম তার সংসারের সমস্ত কলরবের উপরে উঠেছে আমরা সেই সকল মানুষের কণ্ঠের চিরদিনের নামটি উচ্চারণ করতে আজ এখানে একত্র হয়েছি— কোনো পুরস্কার পাবার আশায় নয়, কেবল এই কথাটি বলবার জন্যে যে তাকে আমরা আপনার ভাষায় ডাকতে শিখেছি। মানুষের এই একটি আশ্চর্য সৌভাগ্য । আমরা পশুরই মতো আহার-বিহারে রত, আপন আপন ভাগ নিয়ে আমাদের টানাটানি, তবু তারই মধ্যেই বেদাহমেতং পুরুষং মহাস্তম, আমরা সেই মহান পুরুষকে জেনেছি— সমস্ত মানুষের হয়ে এই কথাটি স্বীকার করবার জন্যেই উৎসবের আয়োজন । \ অথচ আমরা যে সুখসম্পদের কোলে বসে আরামে আছি, তাই আনন্দ করছি, তা নয়। দ্বারে মৃত্যু এসেছে, ঘরে দারিদ্র্য ; বাইরে বিপদ, অস্তরে বেদন ; মানুষের চিত্ত সেই ঘন অন্ধকারের মাঝখানে দাড়িয়ে বলেছে : বেদাহমেতং পুরুষং মহাস্তং আদিত্যবৰ্ণং তমস: পরস্তাং । আমি সেই মহান পুরুষকে জেনেছি যিনি অন্ধকারের পরপার হতে জ্যোতির্ময়রূপে প্রকাশ পাচ্ছেন। মনুষ্যত্বের তপস্যা সহজ তপস্যা হয় নি, সাধনার দুর্গম পথ দিয়ে রক্তমাখা পায়ে মানুষকে চলতে হয়েছে, তবু মানুষ আঘাতকে দুঃখকে আনন্দ বলে গ্রহণ করেছে ; মৃত্যুকে অমৃত বলে বরণ করেছে ; ভয়ের মধ্যে অভয়কে ঘোষণা করেছে— এবং “রুদ্র যত্তে দক্ষিণং মুখং, হে রুদ্র, তোমার যে প্রসন্নমুখ সেই মুখ মানুষ দেখতে পেয়েছে। সে দেখা তো সহজ নয় ; সমস্ত অভাবকে পরিপূর্ণ করে দেখা, সমস্ত সীমাকে অতিক্রম করে দেখা। মানুষ সেই দেখা দেখেছে বলেই তো তার সকল কান্নার অশ্রজলের উপরে তার গৌরবের পদ্মটি ভেসে উঠেছে ; তার দুঃখের হাটের মাঝখানে তার এই আনন্দসন্মিলন। কিন্তু, বিমুখ চিত্তও আছে, এবং বিরুদ্ধ বাক্যও শোনা যায়। এমন কোন মহ ১৩২৯ .الجب