প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


t ऽि কেতন ჭ\y 5 যে ভুলে থাকে সে থাকুক ; তার কোনো তাগিদই নেই। যার মনে পড়ে, যখন মনে পড়ে, সেই তার পূজা করুক— এইটুকু মাত্র তার পাওনা। কেননা, তার কাছে কোনো ভয় নেই। বিশ্বের আর-সব নিয়ম ভয়ে ভয়ে মানতে হয়। আগুনে হাত দিতে ভয় পাই, কেননা জানি যে হাত পুড়বেই। কিন্তু, কেবল র্তার সঙ্গে ব্যবহারে কোনো ভয় নেই। তিনি বলেছেন, আমাকে ভয় না করলেও তোমার কোনো ক্ষতি নেই। এই-যে আজ এত লোকসমাগম হয়েছে, কে তার চিত্তকে স্থির করেছে। তিনি কি দেখছেন না আমাদের চিত্ত কত বিক্ষিপ্ত । কিন্তু, তার শাসন নেই। র্যাদের পদমর্যাদা আছে, রাজপুরুষদের কাছে সন্মান আছে, এমন লোক আজ এখানে এসেছেন। যারা জ্ঞানের অভিমানে মত্ত হয়ে তাকে বিশ্বাস করেন না এমন লোক এখানে উপস্থিত আছেন। কিন্তু, তার বম্বন্ধরার ধৈর্য তাদের ধারণ করে রয়েছে, আকাশের জ্যোতির এক কণাও তাদের জন্য কমে নি – সব ঠিক সমান রয়েছে। তার এই ইচ্ছা যে তিনি আমাদের কাছ থেকে জোর করে কিছু নেবেন না। র্তার প্রহরীদের কত ঘুষ দিচ্ছি, তারা কত শাসন করছে, কিন্তু বিশ্বমন্দিরের সেই দেবতা একটি কথাও বলেন না। মৃত্যুর দিন ঘনিয়ে আসছে, আর আমাদের মনে ভয় জেগে উঠছে যে পরকালে গিয়ে বুঝি এখানকার কাজের হিসাব দিতে হবে । না, সে ভয় একেবারেই সত্য নয়। তিনি যে কোনোদিন আমাদের শাস্তি দেবেন তা নয়। তিনি এমনি করে অপেক্ষা করে থাকবেন । তিনি কুঁড়ির দিকে চোখ মেলে থাকবেন কবে সেই কুঁড়ি ফুটবে। যতক্ষণ কুঁড়ি না ফুটছে ততক্ষণ র্তার পূজার অর্ঘ্য ভরছে না তারই জন্য তিনি যুগ যুগান্তর ধরে অপেক্ষা করে রয়েছেন । এমনি নিৰ্ভয়ে যে মানুষ তাকে দেখতে না পেয়ে গোল করছে, এতেও তিনি ধৈর্য ধরে বসে আছেন । এতে র্তার কোনোই ক্ষতি নেই। * কিন্তু, এতে কার ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে মানবাত্মার। আমরা জানি না আমাদের অস্তরে এক উপবাসী পুরুষ সমস্ত পদমর্যাদার মধ্যে ক্ষুধিত হয়ে রয়েছে। বিষয়ী লোকের, জ্ঞানাভিমানী লোকের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে তার। কবে শুভদিন হবে, কবে মোহরাত্রির অবসান হবে, কবে আনন্দে বিহঙ্গের গান ধরবে, কবে অৰ্ঘ্য ভরে উঠবে। এই-ষে বিশাল বস্থঙ্করায় আমরা জন্মলাভ করেছি, সমস্ত চৈতন্য নিয়ে, জ্ঞান নিয়ে, কবে এই জন্মলাভকে সার্থক করে যেতে পারব ! সেই সার্থকতার জন্যই যে তৃষিত হয়ে অন্তরাত্মা বসে আছে। কিন্তু, ভয় নেই, কোথাও কোনো ভয় নেই। কারণ, যদি ভয়ের কারণ থাকত তবে তিনি উদবোধিত করতেন। তিনি বলছেন ; আমি তো জোর করে চাই নে, যে ভুলে আছে তার ভুল একদিন ভাঙবে। ইচ্ছা করে তার কাছে আসতে হবে, এইজন্যে তিনি তাকিয়ে আছেন। তার ইচ্ছার