প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8br8 রবীন্দ্র-রচনাবলী সঙ্গে ইচ্ছাকে মেলাতে হবে। আমাদের অনেক দিনের সঞ্চিত ক্ষুধা নিয়ে একদিন তাকে গিয়ে বলব ; আমার হল না, আমার হৃদয় ভরল না। যেদিন সত্য করে চাইব সেদিন জননী কোলে তুলে নেবেন। কিন্তু, এ ভুল তবে রয়েছে কেন । আমাদের এই ভুলের মধ্যেই যে তার উপাসনা হচ্ছে । এরই মধ্যে যিনি সাধক তিনি র্তার সাধনা নিয়ে রয়েছেন । র্যাদের উপরে র্তার ডাক গিয়ে পৌচেছে সেই-সকল ভক্ত র্তার অঙ্গনের কোণে বসে তাকে ধ্যান করছেন, তাকে ছাড়া তাদের সুখ নেই। এ যদি সত্য না হ’ত তা হলে কি পৃথিবীতে র্তার নাম থাকত। তা হলে অন্য কথাই সকলের মনের মধ্যে জাগত, তারই কোলাহলে সমস্ত সংসার উত্ত্যক্ত হয়ে উঠত। ভক্তের হৃদয়ের আনন্দজ্যোতির সঙ্গে প্রত্যেক মামুষের নিয়ত যোগ হচ্ছেই। এই জনপ্রবাহের ধ্বনির মাঝখানে, এই-সমস্ত ক্ষণস্থায়ী কল্লোলের মধ্য থেকে, মানবাত্মার অমর বাণী জাগ্রত হয়ে উঠছে । মানুষের চিরদিনের সাধনার প্রবাহকে সেই বাণী প্রবাহিত করে দিচ্ছে ; অতল পঙ্কের মধ্য থেকে পদ্ম বিকশিত হয়ে উঠছে ; কোথা থেকে হঠাৎ বসন্তসমীরণ আসে, যখন এসে হৃদয়ের মধ্যে বয় তখন আমাদের অস্তরে পূজার পুষ্প ফুটব-ফুটব করে ওঠে। তাই দেখছি যে যদিচ এত অবহেলা, এত দ্বেষবিদ্বেষ, চারি দিকে এত উন্মত্ততা, তথাপি মানবাত্মা জাগ্রত আছে। কারণ, মানবের ধর্মই র্তাকে চিন্তা করা । মানবের ধর্ম যে তার চৈতন্যকে কেবল সংসারে বিলুপ্ত করে দেবে তা নয় । সে যে কেবলই জেগে জেগে উঠছে। যারা নিদ্রিত ছিল তারা হঠাৎ জেগে দেখছে যে এই অনস্ত আকাশে র্তার আরতির দীপ জ্বলেছে, সমস্ত বিশ্ব র্তার বন্দনাগান করছে। এতেও কি মানুষের দুটি হাত জোড় হবে না। তোমার না হতে পারে, কিন্তু সমস্ত মানবের অন্তরের মধ্যে তপস্বীদের কণ্ঠে স্তবগান উঠছে। অনস্তদেবের প্রাঙ্গণে সেই স্তবগান ধ্বনিত হচ্ছে, শোনো একবার শোনো ; সমস্ত মানবের ভিতরে, মানবের নিভৃত কন্দরে, যেখানে ভক্ত বসে রয়েছেন সেইখানে তার কী বন্দনাধবনি উঠছে শোনো । এই অর্থহীন নিখিল মানবের কলোচ্ছ্বাসের মধ্যে সেই একটি চিরন্তন বাণী কালে কালে যুগে যুগে জাগ্রত। তাকে বহন করবার জন্য বরপুত্ৰগণ আগে আগে চলেছেন, পথ দেখিয়ে দেখিয়ে চলেছেন। সে আজ নয় । আমরা অনন্ত পথের পথিক, আমরা যে কত যুগ ধরে চলেছি। যারা গাচ্ছেন তাদের গান আমাদের কানে পেচচ্ছে। তাই যদি না পৌছয় তবে কী নিয়ে আমরা থাকব । দিনের পর দিন কি এমনি করেই চলে যাবে। এই কাড়াকড়ি মারামারি উদ্ধৃবৃত্তির মধ্যে কি জীবন কাটবে। এইজন্যেই কি জন্মেছিলুম। জীবনের পথে কি এইজন্যেই আমাদের চলতে বলা