প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*8>8 রবীন্দ্র-রচনাবলী পাপের মার্জন৷ আমাদের প্রার্থনা সকল সময়ে সত্য হয় না, অনেক সময়ে মুখের কথা হয় ; কারণ, চারি দিকে অসত্যের দ্বারা পরিবৃত হয়ে থাকি বলে আমাদের বাণীতে সত্যের তেজ পৌছোয় না । কিন্তু, ইতিহাসের মধ্যে, জীবনের মধ্যে, এমন এক-একটি দিন আসে যখন সমস্ত মিথ্যা এক মুহূর্তে দগ্ধ হয়ে গিয়ে এমনি একটি আলোক জেগে ওঠে যার সামনে সত্যকে অস্বীকার করবার উপায় থাকে না। তখনই এই কথাটি বারবার জাগ্রত হয় ; বিশ্বানি দেব সবিতরঙ্কুরিতানি পরাস্তব ! হে দেব, হে পিতা, বিশ্বপাপ মার্জন করে । আমরা তার কাছে এ প্রার্থনা করতে পারি না ‘আমাদের পাপ ক্ষমা করো’ ; কারণ, তিনি ক্ষমা করেন না, তিনি সহ করেন না। র্তার কাছে এই প্রার্থনাই সত্য প্রার্থনা ; তুমি মার্জন করে। যেখানে যত কিছু পাপ আছে, অকল্যাণ আছে, বারম্বার রক্তস্রোতের দ্বারা, অগ্নিবৃষ্টির দ্বারা, সেখানে তিনি মার্জন করেন । যে প্রার্থনা ক্ষমা চায় সে দুর্বলের ভীরুর প্রার্থনা, সে প্রার্থনা তার দ্বারে গিয়ে পৌছোবে না। আজ এই-যে যুদ্ধের আগুন জলেছে এর ভিতরে সমস্ত মামুষের প্রার্থনাই কেঁদে উঠেছে : বিশ্বানি দুরিতানি পরাস্কব। বিশ্বপাপ মার্জন করে। আজ যে রক্তস্রোত প্রবাহিত হয়েছে সে যেন ব্যর্থ না হয়। রক্তের বন্যায় যেন পুঞ্জীভূত পাপ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যখনই পৃথিবীর পাপ স্ত,পাকার হয়ে উঠে তখনই তো তার মার্জনার দিন আসে। আজ সমস্ত পৃথিবী জুড়ে যে দহনযজ্ঞ হচ্ছে তার রুদ্র আলোকে এই প্রার্থনা সত্য হোক : বিশ্বানি দুরিতানি পরাস্কব । আমাদের প্রত্যেকের জীবনের মধ্যে আজ এই প্রার্থনা সত্য হয়ে উঠুক । لي আমরা প্রতিদিন সংবাদপত্রে টেলিগ্রাফে যে একটু-আধটু খবর পাই তার পশ্চাতে কী অসহ সব দুঃখ রয়েছে আমরা কি তা চিন্তা করে দেখি । যে হানাহানি হচ্ছে তার সমস্ত বেদনা কোনখানে গিয়ে লাগছে। ভেবে দেখো কত পিতামাতা তাদের একমাত্র ধনকে হারাচ্ছে, কত স্ত্রী স্বামীকে হারাচ্ছে, কত ভাই ভাইকে হারাচ্ছে । এইজন্যই তো পাপের আঘাত এত নিষ্ঠুর ; কারণ, যেখানে বেদনাবোধ সব চেয়ে বেশি, যেখানে প্রীতি সব চেয়ে গভীর, পাপের আঘাত সেইখানেই যে গিয়ে বাজে । যার হৃদয় কঠিন সে তো বেদনা অনুভব করে না । কারণ, সে যদি বেদনা পেত তবে পাপ এমন নিদারুণ হতেই পারত না । যার হৃদয় কোমল, যার প্রেম গভীর, তাকেই সমস্ত