প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8షి'ల রবীন্দ্র-রচনাবলী “যদভদ্ৰং তং যা ভদ্র তাই আসবে। ওরে তপস্বী, দুঃসহ দুর্ভর দুঃখভারে তোমার হৃদয় একেবারে নত হয়ে যাক, তার চরণে গিয়ে পৌছোক ! নমস্তেহস্তু। বলে, পিতা, তুমি যে আছ সে কথা এমনি আঘাতের মধ্য দিয়ে প্রচার করো। তোমার প্রেম নিষ্ঠুর, সেই নিষ্ঠুর প্রেম তোমার জাগ্রত হয়ে সব অপরাধ লন করুক। পিত। নো বোধি। আজই তো সেই উদবোধনের দিন। আজ পৃথিবীর প্রলয়দাহের রুদ্র আলোকে, পিতা, তুমি দাড়িয়ে আছ। প্রলয়হাহাকারের উর্ধ্বে স্ত,পাকার পাপকে দগ্ধ করে সেই দহনদীপ্তিতে তুমি প্রকাশ পাচ্ছ, তুমি জেগে রয়েছ। তুমি আজ ঘুমোতে দেবে না; তুমি আঘাত করছ প্রত্যেকের জীবনে কঠিন আঘাত । যেখানে প্রেম আছে জাগুক, যেখানে কল্যাণের বোধ আছে জাগুক ; সকলে আজ তোমার বোধে উদবোধিত হয়ে উঠুক। এই এক প্রচণ্ড আঘাতের দ্বারা তুমি সকল আঘাতকে নিরস্ত করে। সমস্ত বিশ্বের পাপ হৃদয়ে হৃদয়ে ঘরে ঘরে দেশে দেশে পুঞ্জীভূত ; তুমি আজ সেই পাপ মার্জন করে। দুঃখের দ্বারা মার্জন করে, রক্তস্রোতের দ্বারা মার্জনা করে, অগ্নিবৃষ্টির দ্বারা মার্জন করে । এই প্রার্থনা, সমস্ত মানবচিত্তের এই প্রার্থনা, আজ আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে জাগ্রত হোক : বিশ্বানি দুরিতানি পরাস্থব । বিশ্বপাপ মার্জনা করে । এই প্রার্থনাকে সত্য করতে হবে ; শুচি হতে হবে, সমস্ত হৃদয়কে মার্জনা করতে হবে. অাজ সেই তপস্যার আসনে পূজার আসনে উপবিষ্ট হও । যে পিতা সমস্ত মানবসস্তানের দুঃখ গ্রহণ করছেন, র্যার বেদনার অস্ত নেই, প্রেমের অন্ত নেই, যার প্রেমের বেদন উর্দুবেল হয়ে উঠেছে, তার সম্মুখে উপবিষ্ট হয়ে সেই তার প্রেমের বেদনাকে আমরা সকলে মিলে গ্রহণ করি । ৯ ভাদ্র ১৩২১ আশ্বিন-কাতিক ১৩২১ সৃষ্টির ক্রিয়া অবকাশের পর আবার আমরা শাস্তিনিকেতনে ফিরে এসেছি। আর-একবার আমাদের চিন্তা করবার সময় হয়েছে । এখানকার সত্য আহবানকে অন্তরের মধ্যে সুস্পষ্ট করে উপলব্ধি করবার জন্য এবং মনের মধ্যে যেখানে গ্রন্থি রয়েছে, দীনতা রয়েছে, তাকে মোচন করবার জন্য আবার আমাদের ভালো করে প্রস্তুত হতে হবে। এই শাস্তিনিকেতনে যেখানে আমরা সকলে আশ্রয় লাভ করেছি এবং সম্মিলিত হয়েছি, এখানে এই সম্মিলনের ব্যাপারকে কোনো-একটা আকস্মিক ঘটনা বলে মনে