প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& 28 রবীন্দ্র-রচনাবলী উপদেবতার মন্দির তৈরি করে ষোড়শোপচারে তার পূজা করি নি। তার কাছে মানুষের বুদ্ধিকে শক্তিকে বলি দিই নি? যে অজ্ঞানমোহে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করে দূরে পরিহার করে সেই মোহের মন্দির, সেই মূঢ়তার মন্দির কি আমাদের ভাঙতে হবে না। আমাদের সামনে সেই লড়াই নেই? আমাদের মার খেতে হবে আত্মীয়স্বজনের। আমরা দুখকে স্বীকার করব, আমরা অপমান নিন্দ বিদ্রুপের আঘাত পাব, তাতে আমরা ভয় করব না । আমাদের শাস্তনিকেতনে ইতিহাসবিধাতা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন, কোন অমৃতমন্ত্রে সেই শক্তিকে আমরা পাব। ঈশাবাস্তমিদং সৰ্বং । ভয় নেই ; সমস্তই পরিপূর্ণতার দ্বারা আবৃত। মৃত্যুর উপরে সেই অমৃত । ঈশের দ্বারা আচ্ছন্ন করে দেখে —সর্বত্র সেই আনন্দলোক উদঘাটিত হবে, ভয় চলে যাবে। দূর করে সব জালজঞ্জাল, বেরিয়ে এসো । # ভোগমুখ মোহকলুষ আমাদের পায়ে পায়ে জড়িয়ে ধরেছে, নিৰ্ভয়ে সব ফেলে দিয়ে বীরত্বের অভিষেকস্বানে শুচি হয়ে বেরিয়ে এসো। আজ জগৎ জুড়ে যে ক্ৰন্দন বেজেছে তার মধ্যে ভয়ের সুর নেই ; তার ভিতর দিয়ে ইতিহাস তৈরি হচ্ছে, তারই মধ্যে ইতিহাসবিধাতার আনন্দ । সে ক্রনন র্তার মধ্যে শাস্ত । সেই শাস্তং শিবং অদ্বৈতমের মধ্যে মৃত্যু মরেছে। তিনি নিজের হাতে মানুষের ললাটে জয়তিলক পরিয়েছেন। তিনি বিচ্ছেদবিরোধের মাঝখানে দাড়িয়েছেন। যাত্রীরা যেখানে যাত্রা করেছে, মৃত্যুর ঝংকার যেখানে প্রতিধ্বনিত, সেইখানে দেখো সেই শান্তং শিবং অদ্বৈতং । আজ সেই রুদ্রের দক্ষিণ হস্তের আশীৰ্বাদ গ্রহণ করে । রুদ্রের প্রসন্ন হাসি তখনই দেখা যায় যখন তিনি দেখতে পান যে তার বীর সস্তানের দুঃখকে অগ্রাহ করেছে। তখনই তার সেই প্রসন্ন মুখের হাস্যচ্ছটা বিকীর্ণ হয়ে সত্যজ্যোতিতে অভিষিক্ত করে দেয়। রুদ্রের সেই প্রসন্নতা আজ উৎসবের দিনে আমাদের জীবনের উপরে বিকীর্ণ হোক। ৭ পৌষ প্রাতে, ১৩২১ মাঘ ১৩২১ আবির্ভাব তুমি যে এসেছ মোর ভবনে রব উঠছে ভুবনে । আশ্চর্য কথা এই যে আমরা এই গানে বলছি যে, তুমি আমার ভবনে অতিথি হয়ে এসেছ । এই একটি কথা বলবার অধিকার তিনি আমাদের দিয়েছেন। যিনি বিশ্ব ভুবনের সব জায়গা জুড়ে বসে আছেন, তাকেই আমরা বলছি, তুমি আমার ভবনে