প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় * 6 S& কাছে ষেরকম প্রতীয়মান সেরকম ভাবে কাব্যে স্থান পাবার যোগ্য নয়। কারণ, রিয়াল মানুষকে যথার্থ ও সম্পূর্ণরূপে জানবার শক্তি আমাদের না থাকাতে আমরা তাকে প্রতিদিন খণ্ডিত বিক্ষিপ্ত এবং অনেক সময় পূর্বাপরবিরোধী ভাবে না দেখে উপায় পাই নে ; কাজেই তাকে নিয়ে কাব্যে কাজ চলে না। সুতরাং, কাব্যে যদিচ কোনো কোনো রিয়াল লোকের আভাসমাত্র থাকে তবু তাকে সম্পূর্ণ করতে অস্তুর বাহির নানা দিক থেকে নানা উপকরণ আহরণ করতে হয় । চন্দ্রমাধবে মেজদাদার শিশুবৎ স্বচ্ছ সারল্যের ছায়া আছে এবং নির্মলায় সরলার কল্পনাপ্রবণ উদ্দীপ্ত কর্মোৎসাহ আছে, কিন্তু উভয় চরিত্রেই অনেক জিনিস আছে যা তাদের কারোই নয়। [ আশ্বিন ১৩০৭ ] — বিশ্বভারতী পত্রিকা। বৈশাখ ১৩৫০ কাল চিরকুমার-সভা শেষ করিয়া ফেলিয়া হাড়ে বাতাস লাগাইতেছি . ১১ চৈত্র ১৩০৭ । + প্রিয়-পুষ্পাঞ্জলি। পৃ ২৯১ — ایر চিরকুমার-সভার শেষ দিকটায় একেবারে full steam লাগানো গিয়েছিল। যেমন করে হোক শেষ করে দিয়ে অঋণী হবার জন্যে মনটা নিতান্তই ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। তার পরে যখন তোমার কাছে শুনলুম শেষ দিকটা ক্রমেই ঢিলে হয়ে আসছে, তখন কলমের পশ্চাতে খুব একট কড়া চাবুক লাগিয়ে এক দমে শেষ করে দেওয়া গেছে। সকল সময়ে কি মেজাজ ঠিক থাকে। চৈত্রের কুমার-সভা সম্বন্ধে তুমি যা লিখেছ সেটা ঠিক । তোমার পরামর্শ-মতে ভবিষ্যতে ওটা পরিবর্তন করে দেবার চেষ্টা করব। বৈশাখে কুমার-সভার উপসংহারটা পড়ে তোমাদের কিরকম লাগে জানবার খুব কৌতুহল আছে। যথেষ্ট আশঙ্কাও আছে। নিতান্ত অনিচ্ছা এবং নিরুস্তমের মধ্যে কেবলমাত্র প্রতিজ্ঞার জোরে ওটা শেষ করেছি ; মনের সে অবস্থায় কখনো রসনিঃসারণ হয় না । যেখানে থামা উচিত এবং যেরকম ভাবে থামা উচিত তা হয়েছে কিনা নিজে বুঝতে পারছি নে। একবার সমস্ত জিনিসটা একসঙ্গে ধরে দেখতে পারলে তবে ওর পরিমাণসামঞ্জস্য বিচার করা যায়। সেইজন্যে বৈশাখের ভারতীর অপেক্ষায় আছি। যখন বই বেরোবে তখন অনেকটা বদল হয়ে বেরোবে। [ ? চৈত্র, ১৩০৭ ] – প্রিয়-পুষ্পাঞ্জলি । পৃ ২৮৯ রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় রবীন্দ্রনাথকে চিরকুমার-সভা ইংরেজি করার বিষয় লিখিলে, রবীন্দ্রনাথ তদুত্তরে তাহাকে লেখেন— o আমার মনে হয় চিরকুমার-সভার ইংরেজি করা অসম্ভব। তার ব্যঙ্গ, তার শ্লেষ, তার সামাজিক ভূমিকা অত্যন্ত বেশি বাঙালি। বাংলাদেশে খালী-ভগ্নীপতির সম্বন্ধ অনন্ত