প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&V রবীন্দ্র-রচনাবলী পুকুরটা চেয়ে থাকত আকাশে ছলছলে দৃষ্টিতে । আজ তার ছুটি, কোথায় সে চলল খ্যাপা গেরুয়-পরা বাউল যেন । পুকুরের কোণে নৌকোটি দাদারা চড়ে বসল ভাসিয়ে দিয়ে, গেল পুকুর থেকে গলির মধ্যে, গলির থেকে সদর রাস্তায়— তার পরে কোথায় জানি নে ৷ বসে বসে ভাবি । বেলা বাড়ে । দিনান্তের ছায়া মেশে মেঘের ছায়ায়, তার সঙ্গে মেশে পুকুরের জলে বটের ছায়ার কালিমা । সন্ধে হয়ে এল । বাতি জলল ঝাপস আলোয় রাস্তার ধারে ধারে, ঘরে জলেছে কাচের সেজে মিট্‌মিটে শিখা, ঘোর অন্ধকারে একটু একটু দেখা যায় দুলছে নারকেলের ডাল, ভূতের ইশারা যেন । গলির পারে বড়ো বাড়িতে সব দরজা বন্ধ, আলো মিট্‌ মিটু করে দুই-একটা জানলা দিয়ে চেয়ে-থাকা ঘুমন্ত চোখের মতো । তার পরে কখন আসে ঘুম। রাত দুটাের সময় স্বরূপ সর্দার নিযুত রাতে বারান্দায় বারান্দায় হাক দিয়ে যায় চলে । বাদলের দিনগুলো বছরে বছরে তোলপাড় করেছে আমার মন ; আজ তারা বছরে বছরে নাড়া দেয় আমার গানের স্বরকে । শালের পাতায় পাতায় কোলাহল, তালের ডালে ডালে করতালি, বঁাশের দোলাদুলি বনে বনে—