পাতা:রাজা ও রাণী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१8 রাজা ও রাণী ত্ৰিবেদীয় মালা জপিতে জপিতে প্রবেশ ত্ৰিবেদী। শিব শিব শিব। তুমি রাজপুরোহিত হয়েছ ? দেব। তা হয়েছি! কিন্তু রাগ কেন ঠাকুর ? কোনো দোষ ছিল না। মালাও জপিনে, ভগবানের নামও করিনে। রাজার মজ্জি ! ত্রি । পিপীলিকার পক্ষচ্ছেদ হয়েছে। শ্রীহরি ! দেব। আমার প্রতি রাগ করে’ শব্দশাস্ত্রের প্রতি উপদ্রব কেন ? পক্ষচ্ছেদ নয় পক্ষেণম্ভেদ । ত্রি । তা ও একই কথা । ছেদ যা ভেদও তা ! কথায় বলে ছেদভেদ ! হে ভব-কাণ্ডারী ! যাহোক তোমার যতদূর বাৰ্দ্ধক হবাব তা হয়েছে – দেব। ব্রাহ্মণী সাক্ষা এখনো অামাব যৌবন পেবোয়নি ! 屬 ত্রি। আমিও তাই বলচি । যৌবনের দৰ্পে ই তোমার এতটা বাৰ্দ্ধক্য হয়েছে। তা তুমি মববে ! হরিহে দীনবন্ধু ! দেব। ব্রাহ্মণবাক্য মিথ্যে হবে না – তা আমি মবব । কিন্তু সেজন্তে তোমার বিশেষ আয়োজন কর্তে হবে না ; স্বয়ং যম রয়েছেন । ঠাকুর, তোমার চেয়ে আমার সঙ্গে যে র্তার বেশী কুটুম্বিতে তা নয়— সকলেরই প্রতি র্তার সমান নজর । ত্রি । তোমার সময় নিতান্ত এগিয়ে এসেচে। দয়াময় হরি ! দেব। তা কি কবে? জানব ? দেখেচি বটে আজ কাল মরে ঢের লোক—কেউবা গলায় দড়ি দিয়ে মবে, কেউবা গলায় কলসী বেঁধে মরে, আবার সর্পাঘাতেও মরে কিন্তু ব্ৰহ্মশাপে মরে না। ব্রাহ্মণের লাঠিতে কেউ কেউ মরেছে শুনেছি কিন্তু ব্রাহ্মণের কথায় কেউ মরে না । অতএব যদি শীঘ্র না মরে উঠতে পারি ত রাগ কোরো না ঠাকুর—সে আমার দোষ নয়, সে কালের দোষ ।