পাতা:রাজা ও রাণী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


●● রাজা ও রাণী তা সে আর বেশী দিন থাকবে না,—তা’র পাপের ভরা পূর্ণ হয়েছে? এই নাও, আমার সাধ্যমত কিছু দিলাম,—সব দুঃখ দূর করতে পারি নে। পু। আহা, তুমি কোনো রাজার ছেলে হ’বে—তোমার জয় হোক্‌ ! সু। আর বিলম্ব নয়, এখনি যাবে। ( প্রস্থান ) ত্ৰিবেদীর প্রবেশ হে হরি কি দেখ লুম ! পুরুষমূৰ্ত্তি ধরে রাণী সুমিত্রা ঘোড়ায় চড়ে’ চলেছেন। মন্দিরে দেবপুজোর ছলে এসে রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছেন। আমাকে দেখে বড় খুলী! মধুসূদন ! ভাবলে ব্রাহ্মণ বড় সরল হৃদয়, মাথার তেলোয় যেমন একগাছি চুল দেখা যায় না, তলায় তেমনি বুদ্ধির লেশমাত্র নেই—একে দিয়ে একটা কাজ করিয়ে নেওয়া যাক। এর মুখ দিয়ে রাজাকে দুটো মিষ্টি কথা পাঠিয়ে দেওয়া যাক্ ! বাবা তোমরা বেঁচে থাক। যখনি তোমাদের কিছু দরকার পড়বে বুড়ো ত্রিবেদীকে ডেকো, আর দান-দক্ষিণের বেলায় দেবদত্ত আছেন। দয়াময় ! তা’ বলব ! খুব মিষ্টি মিষ্টি করেই বলব। আমার মুখে মিষ্টি কথা আরো বেশী মিষ্টি হ’য়ে ওঠে। কমললোচন! রাজা কি খুলীই হবে ! কথাগুলো যত বড় বড় করে বলব রাজার মুখের স্থা তত বেড়ে যাবে। দেখেছি, আমার মুখে বড় কথাগুলো শোনায় ভালো।--লোকের বিশেষ আমোদ বোধ হয়। বলে, ব্রাহ্মণ বড় সরল ! পতিতপাবন ! এবারে কতটা আমোদ হবে বলতে পারিনে ! কিন্তু শব্দশাস্ত্র একেবারে উলোট পালট করে দেব” । আঃ কি দুৰ্য্যোগ । আজ সমস্ত দিন দেবপুজো হয় নি, এইবার একটু পূজে অর্চনায় মন দেওয়া যাক। দীনবন্ধু, ভক্তবৎসল । ( প্রস্থান )