পাতা:রাণী না খুনি? (প্রথম অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩৬

দারোগার দপ্তর, ৮০ম সংখ্যা।


 সহিস। আমার হাতের কার্য্য আমি এখন পর্য্যন্ত শেষ করিয়া উঠিতে পারি নাই। এরূপ অবস্থার আমি কিরূপে আপনার সঙ্গে এখন গমন করিতে পারি?

 কর্ম্মচারী। আমার যতদুর সাধ্য, আমি না হয়, তোমার কার্য্যের কতক সাহায্য করিতেছি, তাহা হইলে তোমার কার্য্য শীঘ্রই সম্পন্ন হইয়া যাইবে। তাহা হইলে ত তুমি আমার সহিত গমন করিতে পারিবে?

 ছদ্মবেশী-কর্ম্মচারীর এই কথা শুনিয়া নেই কোচবান্‌ প্রথমতঃ তাঁহার সহিত যাইতে অস্বীকার করিল। পরিশেষে অনেক তোষামোদের পর তাঁহার সহিত যাইতে স্বীকৃত হইয়া শীঘ্র শীঘ্র আপনার নিয়মিত কর্ম্ম সমাধা করিয়া লইবার মানসে সেই ছদ্মবেশী-কর্ম্মচারীকে নানারূপ ফরমাইস আরম্ভ করিল। কখন বা তাঁহাকে ঘোড়ার সাজ সরাইয়া দিতে কহিল, কখন বা ঘোড়ার থাকিবার স্থানে পাতিয়া দিবার খড়গুলি যাহা রৌদ্রে শুখাইতে দেওয়া হইয়াছিল, তাহা সেই স্থান আনিতে কহিল। এইরূপে তাহাকে নানারূপ ফরমাইস আরম্ভ করিল। ছদ্মবেশী-কর্ম্মচারী কি করেন, কোন গতিতে তাঁহার কার্য্য-উদ্ধার করিতেই হইবে; সুতরাং সেই কোচবানকে তিনি সর্ব্ব প্রকার সাহায্য করিতে লাগিলেন। মধ্যে মধ্যে তামাক সাজিয়াও তাহাকে খাওয়াইতে হইল। এইরূপে প্রায় দুইঘন্টাকাল অতীত হইলে আবদুল সেই কর্ম্মচারীর সহিত বহির্গত হইল। আমিও ঘোড়া দেখা শেষ করিয়া তাহাদিগের পশ্চাৎ পশ্চাৎ সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলাম।