পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১০৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।



৭০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

 মোহনচাঁদ দের কন্যার সহিত ইহার বিবাহ হয়। এই বিবাহই ইঁহার সমুদয় ভাবী উন্নতির সহায় হইয় উঠে। তিনি নিজ শ্বশুরের সহিত তীর্থভ্রমণ উদ্দেশে যাত্রা করিয়া উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে নানা দেশ পরিভ্রমণ পূর্ব্বক প্রভূত অভিজ্ঞতা লাভ করিয়া আসেন। ফিরিয়া আসিয়া ১৮১৫ খ্ৰীষ্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে একটা সামান্য কাৰ্য্যে নিযুক্ত হন। সেখানে থাকিতে থাকিতে ১৮১৯ সালে নিজে স্বাধীন ভাবে বোতল ও কর্কের ব্যবসা আরম্ভ করেন। এই ব্যবসায়ে অনেক লাভ হয়। অল্পদিনের মধ্যেই কেল্লার কৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়া বিদেশাগত জাহাজ সকলের মুচ্ছুদিগিরি কৰ্ম্ম আরম্ভ করেন। ইহাতে তিনি প্রভূত ধনশালী হইয়াছিলেন। ক্রমে র্তাহার কাজ ও তৎসঙ্গে ধনাগমও বাড়িতে থাকে। অবশেষে তিনি কলিকাতার কোম্পানির কাগজের বাজারের হৰ্ত্তা কর্তা বিধাতা হইয়া উঠেন। কিন্তু তাহার প্রশংসার বিষয় এই তিনি ধনার্জনের জন্য অসৎপন্থা কখনও অবলম্বন করেন নাই। তিনি শিষ্ট, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী লোক ছিলেন। ১৮৪২ অব্দে একটা অবৈতনিক কলেজ স্থাপন করেন। তাহা এখনও তাহার বদান্যতার প্রমাণ স্বরূপ রহিয়াছে। ১৮৫৪ সালে ৬৩ বৎসর বয়সে তাহার মৃত্যু হয়। এই ১৮২৬ সালে তিনি একজন সহরের উন্নতিশীল ধনী ও নেতাদিগের মধ্যে প্রধান-শ্রেণীগণ্য ছিলেন।  এই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সে সময়ে দুই দলে বিভক্ত হইয়া কলিকাতা সমাজকে মহা আন্দোলন ক্ষেত্র করিয়া তুলিয়াছিলেন। তখন ব্রহ্মোপাসনা স্থাপন, ইংরাজীশিক্ষা প্রচলন, ও সহমরণ নিবারণ, এই তিনট আলোচনার বিষয় ছিল; এবং স্কুলের বালকগণও এই আলোচনার আবৰ্ত্তের মধ্যে আকৃষ্ট হইয়া পড়িত। এই জন্য এই সকলের বিশেষ ভাবে উল্লেখ করিলাম। বঙ্গদেশের নবযুগের সূচনাক্ষেত্রে, এই আন্দোলনের রঙ্গভূমিতে, বালক রামতনু কলিকাতায় আসিয়া বিদ্যারম্ভ করিলেন।  বালক রামতনু যদিও তখন এই সমুদর গোলমালের ভিতরে প্রবেশ করিতে পারিতেন না, তথাপি পথে ঘাটে যে বাগ্বিতণ্ডা, যে আন্দোলন চলিত তিনি কিয়ংপরিমাণে তাহার অংশী না হইয়াও থাকিতে পারিতেন না। বরংপ্রাপ্ত ব্যক্তিদিগের মধ্যে যেমন রামমোহন রায়ের দল ও রাধাকান্ত দেবের দল দুই দল হইয়াছিল, তেমনি স্কুলের বালক দিগের মধ্যেও দুই দল হইয়াছিল। তাহাদের মধ্যে সৰ্ব্বদা তর্ক বিতর্ক হইত; এবং কখন কখনও মুখামুখি ছাড়িয়া হাতাহাতি পৰ্য্যন্ত দাঁড়াইত।