পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


চতুর্থ পরিচ্ছেদ।

বঙ্গদেশে শিক্ষাবিস্তার, ইংরাজী শিক্ষার অভ্যুদয় ও হিন্দুকালেজের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত।

১৮২৮ সালে লাহিড়ী মহাশয় স্কুল সোসাইটর স্কুল হইতে বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়া হিন্দু কালেজে প্রবেশ করেন। কিন্তু তাহার হিন্দু কলেজের শিক্ষার বিবরণ দিবার অগ্ৰে বঙ্গদেশে শিক্ষাবিস্তার, ইংরাজী শিক্ষার অভু্যদয় ও হিন্দুকালেজের ইতিবৃত্ত সম্বন্ধে কিছু বলা আব্যশক।

দেওয়ানী কার্য্যের ভার কোম্পানির হাতে আসার পরেও অনেক দিন ফৌজদারী কাৰ্য্যভার মুসলমান কৰ্ম্মচারীদের উপরেই ছিল। তখন বিচারকার্য্যে ইংরাজ জজদিগকে সাহায্য করিবার জন্য এক এক জন মৌলবী সঙ্গে থাকিতেন। কিন্তু আইনজ্ঞ মৌলবী পাওয়া অনেক সময়ে কঠিন হইত। এই অভাব দূর করিবার জন্য, এবং মৈত্রী প্রদর্শন দ্বারা রাজ্যভ্রষ্ট মুসলমান সমাজকে প্রীত করিবার আশয়ে, প্রথম গবর্ণর জেনেরাল ওয়ারেণ হেষ্টিংস বাহাদুর কলিকাতাতে একটা মাদ্রাসা স্থাপন করিবার সঙ্কল্প করিলেন। অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলমান এ বিষয়ে তাহার উৎসাহদাতা ও সহায় হইলেন। তাহাদের উদ্যোগে ১৭৮১ খ্ৰীষ্টাব্দে কলিকাতা নগরে উক্ত মাদ্রাসা স্থাপিত হইল। উহা অদ্যাপি বিদ্যমান আছে। এই কালেজ স্থাপন বিষয়ে গবর্ণর জেনেরাল এতই উৎসাহিত হইয়াছিলেন, যে বিলাতের প্রভুদের অনুমোদনের অপেক্ষা না করিয়াই, কালেজ গৃহ নিৰ্ম্মাণের জন্ত নিজ তহবিল হইতে ষাটি হাজার টাকা দিয়াছিলেন। শুনিতে পাওয়া যায় কোর্ট অব ডিরেক্টারসের সভ্যগণ নাকি পরে ঐ অর্থ তাহাকে প্রত্যপণ করিয়াছিলেন। এতদ্ভিন্ন হেষ্টিংস বাহাদুরের প্রযত্নে ঐ বিদ্যালয়ের ব্যয় নিৰ্ব্বাহের নিমিত্ত বাধিক ত্ৰিশ সহস্র টাকা আয়ের উপযুক্ত ভূসম্পত্তি দান করা হইয়াছিল। এই বিদ্যালয়ে প্রাচীন আরবী ও পারসী রীতি অনুসারে শিক্ষা দেওয়া হইত; এবং একজন প্রাচীন মৌলবী তাহার তত্ত্বাবধান করিতেন।