পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১০৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


৭২ রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ ।

ইহার পর ১৭৯২ খ্ৰীষ্টাব্দে কাশীধামে তত্ৰত্য রেসিডেন্ট জোনাথান ডনকান বাহাদুরের প্রযত্নে একটী সংস্কৃত কালেজ স্থাপিত হয়। এই জোনাথান ডনকান তৎকালের প্রসিদ্ধ ভারত-হিতৈষী ইংরাজদিগের মধ্যে একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন। এদেশীয়দিগের সহিত মিশিতে, বন্ধুতা করিতে, ও তাহাদের হিতচিন্তা করিতে তিনি ভালবাসিতেন । এজন্য তৎকালীন ভারতবাসী ইংরাজগণ তাহাকে আধা হিন্দু বলিয়া মনে করিতেন। সে সময়ে উত্তর পশ্চিমাঞ্চল, রাজপুতানা, ও পঞ্জাব প্রভৃতি অনেক প্রদেশে, বিশেষতঃ রাজপুতদিগের মধ্যে, সূতিকাগারে কন্যা-হত্যা করার প্রথা প্রচলিত ছিল। ডনকান কাশীতে অবস্থিতি কালে বহু-সংখ্যক রাজপুত পরিবারকে কন্যা-হত্যা হইতে বিরত হইবার জন্য শপথ-বদ্ধ করিয়াছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অপর অয়েকজন কৰ্ম্মচারীর সহিত কন্যা-হত্যা নিবারণার্থ গুজরাট ও রাজপুতানাতে প্রেরিত হইয়াছিলেন! এই ভারত-হিতৈষী রাজপুরুষের চেষ্টাতে কাশীতে সংস্কৃত কালেজ স্থাপিত হয়। প্রথম বর্ষে তাহার ব্যয় নিৰ্ব্বাহাৰ্থ গবর্ণমেণ্ট চতুর্দ্দশ সহস্র মুদ্রা মঞ্জুর করেন। পরবর্ষে বার্ষিক ব্যয় ত্রিশ সহস্র মুদ্রা নিৰ্দ্ধারিত হয়।

কাশীর কালেজের নিয়মাবলীর মধ্যে নির্দ্দিষ্ট হয় যে, সেখানে বৈদ্যশাস্ত্রের অধ্যাপক ব্যতীত আর সমুদয় অধ্যাপক ব্রাহ্মণ-জাতীয় হইবেন; এবং মনুপ্রণীত ধৰ্ম্মশাস্ত্রের নির্দ্দিষ্ট প্রণালী অনুসারে ছাত্রদিগকে শিক্ষা দেওয়া হইবে।

পূৰ্ব্বোক্ত উভয় নিয়ম দ্বারাই প্রতিপন্ন হইতেছে, যে তদানীন্তন রাজপুরুষগণ হিন্দু ও মুসলমানগণের প্রাচীন রীতি নীতির প্রতি হস্তার্পণ করিতে অতীব কুষ্ঠিত ছিলেন; বরং সেই সকল রীতি নীতির প্রতি সমুচিত্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করিবার চেষ্টা করিতেন। কেবল তাহা নহে, সে সময়ে তারতবর্ষীয় ইংরাজ গবর্ণমেণ্ট এদেশীয়দিগের প্রাচীন ধৰ্ম্মানুষ্ঠানে বিধিমতে সহায়তা করিতেন। বড় বড় হিন্দু পৰ্ব্ব ও মহোৎসবাদির দিনে ইংরাজদুর্গে তোপধ্বনি হইত; ইংরাজ সৈন্যগণ শান্তিরক্ষার ও সন্মান প্রদর্শনের জন্য মহোৎসব স্থলে উপস্থিত থাকিত; এবং অনেক স্থলে জেলার মাজিষ্ট্রেট স্বয়ং উপস্থিত থাকিয়া সম্মান প্রদর্শন করিতেন। তীর্থস্থানের বড় বড় মন্দিরের রক্ষকরূপে কোম্পানি তাহাদের আয়ের অংশী ছিলেন । এজন্য “পিলগ্রিমস ট্যাকস’ বা “যাত্রীর কর” নামে এক প্রকার শুল্ক আদায় করা হইত। ১৮৪০ সালে দেখা যায় এতদ্দ্বারা বঙ্গদেশে বর্ষে বর্ষে প্রায় তিন লক্ষ টাকা উঠিত। এ কথা এক্ষণে অনেকের নিকট