পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


৭৪ রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

১৮০০ খ্ৰীষ্টাব্দে বাখরগঞ্জ একটা স্বতন্ত্র জিলাতে পরিণত হয়। ১৮০১ খ্ৰীষ্টাব্দে ডাক্তার হামিল্টন ইহার প্রজা সংখ্যা ৯২৬৭২৩ বলিয়া গণনা করেন। কিন্তু ইহাদের মধ্যে একটীও পাঠশালা দেখিতে পান নাই। দেশের অপরাপর কোন কোনও স্থানে সংস্কৃতের চর্চা কিছু ছিল বটে, কিন্তু তাহাও কেবল ব্যাকরণ, স্মৃতি ও ন্যায়ের শিক্ষাতে পর্য্যবসিত হইত। যে জ্ঞানের দ্বারা হৃদয় মন সমুন্নত হয়, জগত ও মানবকে বুঝিবার সহায়তা হয়, এমন কোনও জ্ঞান দেশে বিদ্যমান ছিল না। এমন কি বেদ, বেদান্ত, গীত, পুরাণ, ইতিহাস প্রভৃতি জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থসকল পণ্ডিতগণেরও অজ্ঞাত ছিল।

শিক্ষা সম্বন্ধে যখন দেশের এই দুরবস্থা, তখন নানা কারণের সমাবেশ হইয় দেশের লোকের দৃষ্টি শিক্ষার প্রতি, বিশেষতঃ ইংরাজী শিক্ষার প্রতি, আকৃষ্ট হইতে লাগিল। বৎসরের পর বৎসর যতই ইংরাজ রাজ্য সুপ্রতিষ্টিত হইতে লাগিল, যতই ক্রমে শাসন কার্যের জন্য আইন আদালত প্রভৃতি স্থাপিত হইতে লাগিল, যতই ইংরাজ বণিকগণ দলে দলে আসিয়া কলিকাতা সহরে আপনাদের বাণিজ্যাগার স্থাপন করিতে লাগিলেন, ততই এদেশীয়দিগের, এবং বিশেষ ভাবে কলিকাতার মধ্যবিত্ত গৃহস্থদিগের, মধ্যে স্বীর স্বীয় সস্তানগণকে ইংরাজী শিক্ষা দিবার আকাঙ্ক্ষা বৰ্দ্ধিত হইতে লাগিল।

এই সময়ে কলিকাতার কয়েক ক্রোশ উত্তরবর্তী শ্রীরামপুর নগরে কেরী, মার্সম্যান ও ওয়ার্ড নামক তিনজন ইউরোপীয় খ্ৰীষ্টধৰ্ম্ম-প্রচারক বাস করিতেছিলেন। শ্রীরামপুর তখন দিনেমার জাতির অধীনে ছিল। সে সময়ে ইংরাজ গবর্ণমেণ্ট নবরাজ্য প্রাপ্ত হইয়া এমন ভয়ে ভয়ে বাস করিতেন যে নিজরাজ্য মধ্যে খ্ৰীষ্টধৰ্ম্ম-প্রচারকদিগকে স্বীর ধৰ্ম্ম-প্রচার করিবার অধিকার দিলে পাছে বিদ্রোহাগ্নি জলিয়া উঠে, এই ভয়ে পূৰ্ব্বোক্ত প্রচারকত্রয়কে কলিকাতাতে কার্জাক্ষেত্র বিস্তার করিবার অনুমতি দেন নাই। তদনুসারে তাহার ডেনমার্কের অধিপতির নিকট প্রচারের অনুমতি-পত্ৰ লইয়া শ্রীরামপুরে গিয়া বাস করিয়াছিলেন। ১৮০২ খ্ৰীষ্টাব্দে পীতাম্বর সিং নামক কায়স্থ-জাতীয় এক ব্যক্তিকে তাহারা সৰ্ব্ব প্রথমে খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মে দীক্ষিত করেন। তৎপরে বৎসরের পর বৎসর খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মাবলম্বিগণের সংখ্যা বৰ্দ্ধিত হইতে লাগিল। তাহার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীরামপুরের মিশনারিগণের দুই দিকে মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক হইতে লাগিল। প্রথম, খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মাবলম্বীদিগের ইংরাজী শিক্ষার উপায় বিধান করা, দ্বিতীয়তঃ, দেশীয় ভাষাতে বাইবেল প্রভৃতি গ্ৰন্থ অনুবাদ করিবার জন্য বাঙ্গালা ভাষার