পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
৭৭
চতুর্থ পরিচ্ছেদ।

এই বলিয়া তাহদের আশ্রিত ব্যক্তি দগকে সার্টিফিকেট দিতেন যে এ ব্যক্তি দুইশত বা তিনশত ই রাজী শব্দ শিখয়াছে। এই কারণে সে সময়ে কোন কোনও বালক ইংরাজী অভিধান মুখস্থ করিত। অনেক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা সাঙ্গ করিয়া স্কুল ভাঙ্গিবার সময় নামতা ঘোষাইবার স্তীয় ইংরাজী শদ ঘোষান হইত। যথা

ফিলজফার—বিজ্ঞলোক, প্লেীম্যান—চাষী।
পমকিন—লাউ কুমড়া, কুকুম্বার—শষ॥

 অনেকে বিঘ্নিত হইয়া জিজ্ঞাস করিতে পারেন বাক্য-রচনাহীন ও ব্যাকরণহন ইংরাজী শব্দের দ্বাবা তৎকালীন ইংরাজীশিক্ষিত ব্যক্তিগণ কিরূপে ইংরাজগণের সহিত কথাবাৰ্ত্তা চালাইতেন। সে সম্বন্ধে কলিকাতা সহরে প্রাচীন লোকদগের মধ্যে অনেক কৌতুকজনক গল্প প্রচলিত আছে। তাহার অনেক গল্প পাঠকগণ পরলোকগত রজনারায়ণ বসু মহাশয়ের প্রীত “সে কাল ও একাল” নামক গ্রন্থে দেখিতে পাইবেন। দুই একটমাত্র এস্থলে উল্লেখ করা যাইতেছে।

 একবার বড় ঝড় হইয়! একখানি জাহাজ গঙ্গার তীরে লাগিয়া আড় হইয়া পড়ে। পরদিন সেই জাহাজের সরকার বাবু ইংরাজ প্রভুকে আসিয়া বলতেছেন—“শার শার শিপ ইজ এইটি ওয়ান্‌” অর্থাৎ জাহাজ একাশি হইয় পড়িয়াছে।

 কোন ইংরাজের অধীনস্থ একজন বাঙ্গালি কৰ্ম্মচারী প্রতিদিন পর বেলা সাহেবের ঘোড়ার দানা খাইয়া টিফিন করতেন। দুষ্ট সহিশগণ এই স্থবিধা পাইয়া ঘোড়ার দান। চুরি করিয়া বুেচিত। ক্রমে এবিষয় প্রভুর . কর্ণগোচর হইলে তিনি ভূতাদিগকে যখন তিরুস্কার করিতে লাগিলেন, তখন তাহারা বলিল—“হুজুর! আপনার বাবু রোজ রোজ ঘোড়ার দানাতে টিফিন করেন”। সাহেবের বড় আশ্চৰ্য্য বোধ হইল। তিনি বসুজ মহাশয়কে ডাকিয়। বলিলেন—“নবীন ! তুমি নাকি আমার ঘোড়ার দানাতে টিফন কর?” নবীন বললেন -"ইয়েশ, শার মাই হাউস মানিং এও ইবনিং টুয়ো ন্ট লীভস্ . ফল, লিটল লিটল পে, হাউ- মনেজ?—অর্থাৎ আমার বাটীতে প্রাতে ও সন্ধাতে কুড়ি খান পাত পড়ে এত কম বেতনে কিরূপে চলে.! শুনিতে পাওয়া যায় বম্বৰু মহাশয়ের এই উক্তিতে ইংরাজটা নাকি সদয় ईश्ब्र তাহার বেতন বৰ্দ্ধিত করিয়া দিরাছিলেন।