পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ ।

ডিরোজিওর পিতামাতা সে ভয় করিয়ূেন না। বালক ডিরোজিও সেই স্কুলে ভৰ্ত্তি হইলেন।

 ড্রমণ্ডের প্রতিভার এক প্রকার জ্যোতি ছিল যাহাতে তিনি বালকদিগের চিত্তাকর্ষণ করিতে পারিতেন এবং স্বীয় হৃদয়ের ভাব তাহাদের হৃদয়ে ঢালিয়া দিতে, পারিতেন। তাঁহার সংস্রবে আসিয়া বালক ডিরোজিওর প্রতিভা ফুটিয়া উঠিল। চতুর্দশ বর্ষ বয়ঃক্রম কালে তিনি পাঠ সাঙ্গ করিয়া বাহির হইলেন। বাহির হইয়া কিছুদিন তাহার পিতার আফিসে কেরাণীগিরি কৰ্ম্মে নিযুক্ত থাকিলেন। তৎপরে কিছুদিন ভাগলপুরে তাহার এক মাসীর ভবনে বাস করেন। তাঁহার মাসী উইলসন নামক একজন নীলকর ইংরাজকে বিবাহ করিয়াছিলেন। ভাগলপুরে থাকিবার সময় বালক ডিরোজিও একাকী গঙ্গাতীরে বেড়াইতেন; এবং কবিতা রচনা করিতেন। তদ্ভিন্ন তাঁহার জ্ঞান-পৃহ এমনি প্রবল ছিল যে সেই অল্প বয়সে ইংরাজি সাহিত্য ও দর্শন সম্বন্ধীয় উৎকৃষ্ট উৎকৃষ্ট সমুদয় গ্রন্থাবলী আগ্রহের সহিত পাঠ করিতেন।

 সে সময়ে ডাক্তার গ্রান্ট ( Dr. Grant) নামে একজন ইংরাজ ইণ্ডিয়া গেজেট’ (India Gazette) নামে একখানি সংবাদ পত্র বাহির করিতেন। ঐ পত্রে ডিরোজিওর লিখিত কবিতা ও প্রবন্ধ সকল বাহির হইত। শুনিতে পাওয়া র্যায় সুবিধাত জৰ্ম্মান দার্শনিক ইমানুয়েল ক্যান্টের গ্রন্থ প্রকাশিত হইলে ডিরোজিও তাহার এক সমালোচনা বাহির করিয়াছিলেন, তাহা দেখিয়া সে সময়কার পণ্ডিতগণ বিক্ষিত হইয়। গিয়াছিলেন। তাহাতে এমন প্রখর ধীশক্তি ও স্বাধীন চিন্তার পরিচয় পাওয়া গিয়াছিল, যে সকলেই অনুভব করিয়াছিলেন যে লেখক, একজন সামান্ত ব্যক্তি নহেন। . ভাগলপুরে বাস কালে ডিরোজিও যে সকল কবিতা লিখিয়াছিলেন তন্মধ্যে Fakir of Jhungeera নামক কবিতাই সুপ্রসিদ্ধ। ভাগলপুরের সন্নিকটে নদীগর্ভস্থিত ঝঙ্গীরা নামক এক অঞ্জণ্যময় আশ্রমে এক ফকীর বাস করিতেন। তাঁহার আশ্রমকে উদ্দেশ করিয়াই ডিরোজিও উক্ত কবিতা রচনা করিয়াছিলেন। এই কবিতা প্রকাশিত হইলে, তদানীন্তন শিক্ষিত ইংরাজ ও বাঙ্গালি সমাজে ডিরোজিওর কবিত্ব-খ্যাতি প্রচার হইয়া গেল। ১৮২৮ খ্ৰীষ্টাব্দে ডিরোজিও তাহার কবিতাপুস্তক মুদ্রিত করিবার জন্য কলিকতাতে আসেন। সেই সময়ে হিন্দুকলেজে একটা শিক্ষকের পদ খালি হয়; স্কুল কমিটী সেই পদে ডিরোজিওকে নিযুক্ত করেন। ১৮২৮ সালের মার্চ মাসে তিনি ঐ পদে প্রতিষ্ঠিত হন।