পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯১
চতুর্থ পরিচ্ছেদ ।

সুরাপান করিতে শিথিয়াছিলেন। তঁহার পিতা নন্দকিশোর বসু রামমোহন রায়ের একজন শিষ্য ছিলেন। নন্কিশোর বস্থ মহাশয় একদিন শুনিলেন যে তাঁহার পুত্র বন্ধুদের সঙ্গে মিশিয়া কখন কখনও অতিরিক্ত সুরাপান করে। তখন তিনি একদিন রাজনারায়ণ বাবুকে গোপনে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন —“তুমি কি মদ খাও?” তিনি বলিলেন—“ই”। তখন, তাহার পিতা আলমারি খুলিয়া একটী বোতল ও একটা মদের গ্লাস বাহির করিলেন, এবং কিঞ্চিৎ স্বরা ঢালিয়া পুত্রকে পান করিতে দিলেন, এবং নিজে একটু পান করিলেন। বলিলেন—“ষখনি সুরাপান করিবে তখনি আমার সঙ্গে পান করিবে, অন্যত্র পান করিবে না।” তাহার সঙ্গে পান করিলে সন্তান সৰ্ব্বদ পরিমিত সীমার মধ্যেই থাকিবে, বোধ হয় এইরূপ চিন্তা করিয়াই ও প্রকার বলিয়া থাকিবেন। যাহা হউক, এতদ্বারা বুঝা যাইতেছে সে সময়কার সংস্কার পথে অগ্রসর ব্যক্তিগণ সুরাপানকে হীন চক্ষে দেখিতেন না। সুতরাং ডিরোজিওর শিষ্যগণ অপরাপর দিকে অগ্রসর হওয়ার দ্যায় সুরাপান বিষয়েও যে অগ্রসর হইয়াছিলেন, তাহা কিছুই আশ্চর্য্যের বিষয় নয়।

 ডিরোজিওর সংশ্রবে আসিয়া হিন্দু কলেজের ছাত্রগণের মনে মহা বিপ্লব ঘটতে লাগিল। তিনি তাহাদিগকে লইয়া একাডেমিক এসোসিএশন (Academic Association) নামে একটী সভা স্থাপন করিলেন। তিনি তাহার সভাপতিত্ব করিতেন, এবং তাহার শিষ্যদল প্রধান বক্তা হইত। এই সভা বঙ্গদেশের সামাজিক ইতিবৃত্তের একটা প্রধান ঘটনা। ইহার বিশেষ বিবরণ পর পরিচ্ছেদে দেওয়া যাইবে।

 কালেজের বালকগণের মধ্যে যে নব অগ্নি জুলিয়া উঠিল, যে নবজীবনের সঞ্চার হইল, তাহা নানাদিকে প্রকাশ পাইতে লাগিল। লাহিড়ী মহাশয় যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠিলেন, তখমডিরোজিওর শিষ্যগণ একত্র হইয়া"Athenium" নামে এক মাসিক ইংরাজী পত্রিক বাহির করিলেস। প্রচলিত হিন্দুধৰ্ম্মকে আক্রমণ করা ইহার এক প্রধান কাজ ছিল। এই পত্রে মাধবচন্দ্র মল্লিক নামে একজন ছাত্র লিখিলেন—“If there is any thing that we hate from the bottom of our heart, it is Hindhism.”—“যদি হৃদয়ের অস্তস্তম তল হইতে কিছুকে ঘৃণা করি, তবে তাহ হিন্দুধৰ্ম্ম |” এরূপ শুনিতে পাওয়া যায়, હૈ পত্রিকার তুই সংখ্যা বাহির হইলেই ডাক্তার উইলসন তাহা বন্ধ করিয়া দিলেন।

 এই মাধবচন্দ্র মল্পিক পরে ডেপুটী কালেক্টর হইয়া কৃষ্ণনগরে গিয়াছিলেন।