পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ ।

শালতী ভরিয়া ডাল রাধিয়া শত শত দুর্ভিক্ষগ্রস্ত প্রজাকে বহুদিন। আহার করাইয়া বীচাইয়াছিলেন।

 এইরূপে বণিকগণের রাজা হইয়া বসিতে ও রাজার কৰ্ত্তব্য সকল। হৃদয়ে ধারণ করিতে অনেক দিন গেল॥ অপর দিকে প্রজাদিগেরও নূতন রাজাদিগের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করিতে বহুদিন লাগিল। প্রথম প্রথম এদেশের লোক বুঝিতে পারে নাই, ইংরাজেরা এদেশে স্থায়ী হইয়া বসিতে পারিবেন কি না? পলাশীর যুদ্ধে হ্রাহারা দেশ জয় করিলেন বটে, কিন্তু চারিদিকে অস্তবিদ্রোহ চলিল। একদিকে মুসলমান নবাবদিগের সহিত বিবাধ, অপরদিকে পশ্চিমে ও দাক্ষিণাতো মহারাষ্ট্রীদিগের ও পূর্বে মগ দিগের সহিত বিরোধ চলিতে লাগিল। দেশের মধোও বিষ্ণুপুর, বীরভূম প্রভৃতি স্থানে দলে দলে বিদ্রোহী দেখা দিতে লাগিল। ১৮২৫ সালের মধ্যে এই সকল উপদ্রবের অধিকাংশ প্রশমিত হইল। বিগত শতাব্দীর প্রারম্ভ হইতেই এদেশীয়ুগণ অফুভব করিতে লাগিলেন যে ইংরাজরাজ্য স্থায়ী হইল, এবং তাহাদিগকে এই নবরাজ্যের ও নূতন রাজাদিগের প্রয়োজনানুসারে গঠিত হইতে হইবে। ইংরাজ-রাজপুরুষগণও হৃদয়ঙ্গম করিতে লাগিলেন যে ভারতসাম্রাজ্য বহুবিস্তীর্থহইতে যাইতেছে; এবং সেই সাজ্যের দায়িত্বভার তাহাদের মস্তকে।

 রাজা ও প্রজা উভয়ের মনে এই পরিবর্তন ঘটিয়া উভয় শ্রেণীর মনে একই প্রশ্নের উদয় হইল। রাজারা ভাবিতে লাগিলেন, কি প্রকারে এদেশ শাসন করি, প্রাচীন বা নবীন রীতি অনুসারে? প্রজগণও চিন্তা করিতে লাগিলেন, কাহাকে এখন আলিঙ্গন করি;-প্রাচীনকে বা নবীনকে? ১৮২৫ হইতে ১৮৪৫ সাল পর্যন্ত বিংশতি বর্ষের মধ্যে উক্ত উভয় প্রশ্নের বিচার ও মীমাংসা হইয়াছিল বলিয়া ঐ কালকে বঙ্গদেশের সামাজিক ইতিবৃত্তের সন্ধিক্ষণ বলিয়া বৰ্ণন কমিয়াছি। যেরূপে মীমাংসা হইয়াছিল তাহ৷ পরে নির্দেশ করিতছি।

 নূতন রাজারা যতদিন এদেশ ও এদেশবাসীদিগকে বুঝিয়া লইতে পারেন নাই, ততদিন কোনও বিভাগেই লঘুভাবে প্রাচীনকে বিপৰ্য্যন্ত করেন নাই। সর্ববিভাগেই ভয়ে ভয়ে প্রাচীনের প্রতি হস্তাপণ করিয়াছেন। রাজনীতি বিভাগে সর্বাগ্রে দেশীয় কর্মচারীদিগের দ্বারা, দেশীয় রীতিতেই, সকল কার্য্য করিবার প্রয়াস পাইয়াছেন। প্রথম প্রথম এক একজন এদেশীয় নায়েব-দেওরান