পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
৪৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

সার সঙ্গে আবিসেয়ার ক্লাস রাখা হইয়াছিল। ইহার বিবরণ পরে বিস্তৃতরূপে দেওয়া যাইবে।

 অতএব ইহা নিশ্চিত যে ইংরাজগণ লঘুভাবে প্রাচীনের প্রতি হস্তার্পণ করেন নাই; কতক ভয়ে, কতক লোকরঞ্জনার্থে, কতক প্রকৃষ্ট রাজনীতি বোধে, র্তাহারা প্রারম্ভে সৰ্ব্ববিষয়ে প্রাচীনকে রক্ষা করিয়াই চলিতেন। এই সন্ধিক্ষণের মধ্যে মহা তর্ক-বিতর্কের পর প্রাচীনকে বিপৰ্য্যস্ত করিয়া নবীনের প্রতিষ্ঠা করা হইল। ইংরাজ পক্ষে মেকলে ও বেণ্টিঙ্ক এই নবযুগের সারথি হইয়াছিলেন।

 এই আন্দোলন এদেশীয়দিগের মনেও উঠিয়াছিল। তাহারাও এই সন্ধিক্ষণুে বিচার করিতে লাগিলেন, প্রাচীন ও নবীন ইঙ্গার মধ্যে কাহাকে বরণ করিবেন? তাহাদের মধ্যে শিক্ষিত ও অগ্রসর ব্যক্তিরা স্থির করিলেন যে প্রাচীনকে বর্জন করিয়া নবীনকেই বরণ করিতে হইবে। দেশীয় পক্ষে রামমোহন রায়, ডেবিড হেয়ার ও ডিরোজিও এই পুরুষত্রয় সারথ্য কার্য্যের ভার লইয়াছিলেন।

 রামমোহন রায় ১৮২৩ সালে লর্ড আমহাষ্টকে যে পত্র লেখেন তাহাকেই এই নবযুগের প্রথম সপ্তরিক শঙ্খধ্বনি মনে করা যাইতে পারে। তিনি যেন স্বদেশবাসীদিগের মুখ পূৰ্ব্ব হইতে পশ্চিমদিকে ফিরাইয়া দিলেন। তবে ইহা স্মরণীয় যে তাহাতে যাহা ছিল অপর কোনও নেতাতে তাহ হয় নাই। তিনি নবীনের অভ্যর্থনা করিতে গিয়া প্রাচীন হইতে পা তুলিয়া লন নাই। হিন্দুজাতির কোথায় মহত্ব তিনি তাই পরিষ্কাররূপে হৃদয়ঙ্গম করিয়াছিলেন, এবং তাহা সযত্নে বক্ষে ধারণ করিয়াছিলেন, অথচ পাশ্চাত্য বিজ্ঞান, পাশ্চাত্যনীতি ও পাশ্চাত্য জনহিতৈষণাকে অনুকরণীয় মনে করিয়াছিলেন। কিন্তু সামাজিক সকল প্রকার বিপ্লবেরই একটা ঘাত প্রতিঘাত আছে। প্রাচীন পক্ষাবলম্বিগণ এক দিকে অতিরিক্ত মাত্রাতে যাওয়াতে এই সন্ধিক্ষণে নবীন পক্ষপাতিগণ ও অপরদিকে অতিরিক্ত মাত্রাতে গিয়াছিলেন। যাহা কিছু প্রাচীন সকলি মন্দ, এবং যাহা কিছু নবীন সকলি ভাল, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইরাছিলেন। ইহার ফল কিরূপ দাড়াইয়াছিল পরেনির্দেশ করিতেছি।

 এই নবীনে অতিরিক্ত আসক্তির আরও একটু কারণ ছিল। ফরাসি বিপ্লবের আন্দোলনের তরঙ্গসকল ভারতক্ষেত্রেও আসিয়া পৌঁছিয়াছিল। ১৮২৮ সালে যাহারা শিক্ষাকাৰ্য্যে নিযুক্ত ছিলেন ও যে যে কবি ও গ্রন্থকারের