পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৩
পঞ্চম পরিচ্ছেদ।

প্রারম্ভে লর্ড আমহার্ষ্ট লিখিলেন — I think there is reason to believe and expect that, except on the occurrence of some very general sickness, such as that which prevailed in the lower parts of Bengal in 1825, the progress of general instruction and the unostentations exertions of our local officers will produce the happy effect of a gradual diminution, and at no very distant period, the final extinction of the barbarous rite of suttee."—অর্থাং এরূপ আশা করা যায় যে শিক্ষা বিস্তারের গুণে ও গবর্ণমেণ্টের কৰ্ম্মচারীদিগের চেষ্টায় অচিরকালের মধ্যে এই নৃশংস প্রথা তিরোহিত হইবে। বলা বাহুল্য গবর্ণর জেনেরালের এইরূপ মীমাংসা রামমোহন রায় প্রভৃতি সমাজ সংস্কারকগণের বিরক্তি উৎপাদন করিয়াছিল। তাঁহারা এ বিষয়ে আন্দোলন করিতে প্রবৃত্ত রহিলেন। এখন তাঁহাদের প্রধান কাৰ্য্য এই হইল যে, কোনও স্থানে কোন ও রমণী সহমৃতা হইতেছেন এই সংবাদ পাইলেই কতিপয় বৎসর পূৰ্ব্বে এই প্রথাকে দমনে রাখিবার জন্য যে সকল নিয়ম প্রবর্ত্তিত হইয়াছিল, তাহা প্রতিপালিত হইল কি না তাঁহারা দেখিবার চেষ্টা করিতেন, সে কারণে তাঁহারা দলে দলে সহমরণের স্থলে উপস্থিত থাকিতেন। এই চেষ্টা এ প্রথা দমনের পক্ষে অনেক সহায়তা করিতে লাগিল।
 এই বৎসরের (১৮২৮ সাল) ৬ই ভাদ্র দিবসে রামমোহন রায় কলিকাতার চিৎপুর রোডে ফিরিঙ্গী কমল বসু নামক এক ভদ্রলোকের বাহিরের বৈঠকখানা ভাড়া লইয়া সেখানে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করিলেন। একদিন রবিবার রামমোহন রায় বন্ধুবর এডামের উপাসনা হইতে গৃহে প্রতিনিবৃত্ত হইতেছিলেন। তখন তারাচাঁদ চক্ৰবৰ্ত্তী ও চন্দ্রশেখর দেব তাঁহার গাড়িতে ছিলেন। পথিমধ্যে চন্দ্রশেখর দেব বলিলেন,—‘দেওয়ানজী বিদেশীয়ের উপাসনাতে আমরা গতায়াত করি, আমাদের নিজের একটা উপাসনার ব্যবস্থা করিলে হয় না? এই কথা রামমোহন রায়ের মনে লাগিল। তিনি- কালীনাথ মুসী, দ্বারকানাথ ঠাকুর, মথুরানাথ মল্লিক প্রভৃতি আত্মীয়-সভায় বন্ধুগণকে আহবান করিয়া এই প্রস্তাব উপস্থিত করিলেন। সকলের সম্মতিক্রমে সাপ্তাহিক ব্রহ্মোপাসনার্থ একটী বাড়ী ভাড়া করা স্থির হইল। তদনুসারে উক্ত ফিরিঙ্গী কমল বসুর বাড়ী ভাড়া করিয়া তথায় সমাজের কার্য্য আরম্ভ হইল। প্রতি শনিবার সন্ধ্যাকালে ব্রহ্মোপাসনা হইত। কার্যপ্রণালী