পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৬
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

সংবাদপত্রে লিখিল—“ভারতবর্ষে একজন ডিমস্থিনিস্ দেখা দিয়াছে, একজন বাঙ্গালি যুবক তিনজন সুদক্ষ ইংরাজ বারিষ্টারকে ধরাশায়ী করিয়াছে।”

 ১৮৫১ সালে যখন বর্ত্তমান ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান এসোসিএশন স্থাপিত হয় তখন তিনি ইহার কমিটীভুক্ত হন। ১৮৫৩ সালে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সনন্দ পুনর্গ্রহণের সময় এক মহাসভা হয়, তাহাতে রামগোপাল এক বক্তৃতা করেন। ইহাতে যেমন ওজস্বিত, তেমনি সাহসের পরিচয় দিয়াছিলেন। পরবর্তী সময়ের লেপ্টেনেন্ট গবর্ণর হেলিডে (Sir Frederick Halliday) মহোদয় এদেশীয়দিগের বিরুদ্ধে তৎপূৰ্ব্বে পার্লমেণ্টের নিযুক্ত কমিটীর নিকট সাক্ষ্য দিয়াছিলেন। রামগোপাল এই বক্তৃতাতে সেই সাক্ষ্যকে সুতীক্ষ্ন বিচারছুরিকার দ্বারা খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলেন। তাহাতে তাঁহার প্রতিভার খ্যাতি বহুগুণ বাড়িয়া গিয়াছিল। তৎপরে ১৮৫৮ সালে ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া স্বয়ং রাজ্যভার গ্রহণ করিলে আনন্দসূচক এক সভা হইয়াছিল, তাহাতে রামগোপাল বাগ্মিতার দ্বারা সকলকে চমৎকৃত করিয়াছিলেন। তৎপরে হিন্দুপেটিয়টের হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের স্মরণার্থ সভাতে, লর্ড ক্যানিংএর সম্বৰ্দ্ধনার্থ সভাতে, তিনি যে সকল বক্তৃতা করেন, তাহাও স্মরণয়োগ্য। কিন্তু তাঁহার যে বক্তৃতা কলিকাতাবাসী হিন্দুগণের স্মৃতিতে চিরদিন জাগরূক থাকিবে, যে জন্য তাঁহারা চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকিবেন, তাহা নিমতলার শ্মশান-ঘাট সম্বন্ধীয় বক্তৃতা। ১৮৬৪ সালে কলিকাতার মিউনিসিপালিটী নিমতলার বর্তমান শ্মশানঘাটকে গঙ্গাতীর হইতে স্থানান্তরিত করিবার সংকল্প করেন। এই সময়ে রামগোপাল সমগ্র কলিকাতাবাসী হিন্দুগণের পক্ষ হইয়া উত্থিত হইয়াছিলেন; এরং প্রধানতঃ তাঁহারই অগ্নিময় বক্তৃতার গুণে ঐ প্রস্তাব স্থগিত হয়।

 রামগোপাল যে কেবল বক্তৃতার দ্বারাই রাজনীতির আন্দোলনে সহায়তা করিতেন তাহা নহে। সময়ে সময়ে লেখনী ধারণও করিতেন। ১৮৪৯-৫০ সালে গবৰ্ণর জেনেরালের ব্যবস্থাপক সভাতে কয়েকখানি আইনের পাণ্ডুলিপি উপস্থিত হয়। ভারতবাসী ইংরাজদিগকে এদেশীয়দিগের সহিত বিরোধস্থলে কোম্পানির ফৌজদারী আদালতের ও দণ্ডবিধির অধীন করাই ঐ সকল পাণ্ডুলিপির উদ্দেশ্য ছিল। এদেশীয়দিগকে ইংরাজদ্বিগের অত্যাচার হইতে রক্ষণ করা ঐ আইনের লক্ষ্য ছিল। ইহাতে কলিকাতাবাসী ইংরাজগণ ঐ সকল পাণ্ডুলিপির “কালা আইন” (Black Acts) নাম দিয়া তদ্বিরুদ্ধে ঘোর