পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২৭
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ।

আন্দোলন করেন। কয়েক বৎসর পূৰ্ব্বে এদেশে ইলবার্ট বিলের যে আন্দোলন উঠিয়াছিল, ইহা যেন কতকটা তাঁহার অনুরূপ। ইংরাজগণ গবর্ণমেণ্টের প্রতি গালগিালি বর্ষণ আরম্ভ করিলেন। তখন দেশের এমনি অবস্থা যে, সেই উৎকৃষ্ট আইনগুলির সপক্ষে বলিবার জন্য কেহই ছিল না। তখন কেবলমাত্র রামগোপাল ঘোষ লেখনী ধারণ করিলেন; এবং “A few Remarks on certain Draft Acts, commonly called Black Acts” নামে একখানি পুস্তিক প্রকাশ করিলেন। ইহাতে কলিকাতাবাসী ইংরাজগণ তাঁহার প্রতি এমনি চটিয় গেলেন যে, তাঁহারা সমবেত হইয়া তাঁহাকে Agri-Horticultural Societyর সহকারী সভাপতির পদ হইতে অধঃকৃত করিলেন। এই সভা ১৮২১ সালে শ্রীরামপুরের স্ববিখ্যাত উইলিয়াম কেরীর উদ্যোগে স্থাপিত হয়। শুনিতে পাওয়া যায়, তাঁহাকে উক্ত পদ হইতে অবিচার পূর্ব্বক সরাইয়া দেওয়াতে বিরক্ত হইয়া মিষ্টর সিসিল বীডন উক্ত সভার সভ্যপদ পরিত্যাগ করেন। ইনিই পরে সার সিসিল বীডনরূপে বঙ্গদেশের লেপ্টেনেণ্ট গবর্ণরের পদে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিলেন।

 কেবল রাজনীতি বিষয়ে নহে, দেশের সর্ব্ববিধ সদনুষ্ঠানে রামগোপাল উৎসাহদাতা ছিলেন। মহামতি হেয়ারের যে সুন্দর শ্বেত-প্রস্তরময় মূর্ত্তিটী এক্ষণে প্রেসিডেন্সি কলেজের সম্মুখস্থ প্রাঙ্গণে দণ্ডায়মান আছে; তাহা প্রধানতঃ তাহারই চেষ্টাতে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। ১৮৪১ সালে, ১৭ই জুন কাশিমবাজারের রাজা কৃষ্ণনাথের আহ্বানে মেডিকেল কলেজে এক সভার অধিবেশন হয়, তাহাতে মহাত্মা হেয়ারের একটা প্রস্তরময়ী মূৰ্ত্তি নিৰ্ম্মাণের প্রস্তাব উপস্থিত হয়। সেই সভাতেই অনেকে এই প্রস্তাবের বিরোধ ছিলেন। কিন্তু রামগোপাল উদ্যোগী হইয়া নিজের এক মাসের আর দিয়া, হেয়ারের শিষ্যবৰ্গকে এক এক মাসের আয় এই জন্য ব্যয় করিতে অনুরোধ করিয়া এক প্রার্থনাপত্র প্রকাশ করেন। শুনিতে পাওয়া যায়, তাঁহার দৃষ্টান্ত ও আগ্রহে হেয়ারের শিষ্যগণের অনেকেই এক এক মাসের আয়-দিয়াছিলেন। এইরূপে সংগৃহীত অর্থের দ্বারা হেয়ারের প্রস্তর-মূৰ্ত্তি নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। ঐ মূৰ্ত্তি প্রথমে সংস্কৃত কলেজের প্লাঙ্গণে স্থাপিত হয়। তৎপরে প্রেসিডেন্সি কালেজ গৃহ নিৰ্ম্মিত ইইলে, তাহার প্রাঙ্গণে স্থাপিত হইয়াছে।

 বৃদ্ধাবস্থাতে রামগোপাল বিষয়কর্ম্ম হইতে অবসৃত হইয়া একান্তে বাস করিতেন। তখন আত্মীয় স্বজনকে ও স্বীয় ৰন্ধুবান্ধবকে বিবিধপ্রকারে সহা