পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩০
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

বাহির হইয়াছে, তাহাতে রামমোহন রায়ের একজন শিষ্যের বিষয়ে এইরূপ একটা ঘটনার উল্লেখ আছে। বালক রসিককৃষ্ণই বোধ হয় সেই শিষ্য। রসিককৃষ্ণের বিষয়ে এইরূপ গল্প, লাহিড়ী মহাশয়ের ও ডাক্তার কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গিয়াছে। রসিককৃষ্ণের যে রামমোহন রায়ের প্রতি প্রগাঢ় আস্থা ছিল তাহার প্রমাণও আছে। রাজার মৃত্যুর পর ১৮৩৪ সালে তাঁহার স্মরণার্থ কলিকাতাতে এক সভা হয়। তাহাতে বাঙ্গালী বক্তার মধ্যে তিনিই ছিলেন।

 ডিরোজিও কালেজ ত্যাগ করার পরও তাঁহার শিষ্যদল সংস্কার কার্য্যে কিরূপ সাহসিকতা প্রদর্শন করিতেন তাহা পূৰ্ব্বেই বলিয়াছি। রসিকও যে সে বিষরে তাঁহার বন্ধুদের সঙ্গী হইতেন তাহাতে সন্দেহ নাই। ক্রমে বাড়ীর লোক ভীত ও উত্তেজিত হইয়া উঠিলেন। রসিককৃষ্ণের জননী কোনও প্রকারে তাঁহার মতিগতি ফিরাইতে না পারিয়া, পাড়ার নিৰ্ব্বোধ বৃদ্ধা স্ত্রীলোকদিগের প্ররোচনায়, তাঁহার মন ফিরাইবার জন্য, তাঁহাকে পাগলাগুঁড়ো খাওয়াইলেন। হেয়ারের জীবনচরিতে প্যারীচাঁদ মিত্র লিখিয়াছেন, এবং রসিককৃষ্ণের পরিবারস্থ ব্যক্তিদিগের মুখেও শুনিয়াছি যে, এই ঔষধ খাইয়া তিনি সমস্ত রাত্রি সচেতন হইয়া ছিলেন। সেই অবস্থাতেই তাঁহাকে কাশীতে প্রেরণ করিবার আয়োজন হইতে লাগিল। নৌকা প্রস্তুত, তাঁহার হাত পা দড়িতে বাঁধা। তিনি চেতনালাভ করিয়া কোনও প্রকারে আপনাকে বন্ধন মুক্ত করিয়া পিতৃগৃহ হইতে পলায়ন করিলেন। পলায়ন করিয়া চোরবাগানে এক বাসা করিলেন। সেই বাসা ডিরোজিও দলের এক আড্ডা হইয়া দাঁড়াইল। লাহিড়ী মহাশয়ের মুখে শুনিয়াছি তিনি সৰ্ব্বসা সেখানে যাইতেন। সেই বাটীতে হিন্দুসমাজের কেল্লা ভগ্ন করিবার সকল প্রকার পরামর্শ স্থির হইত। ইহারই পরে বোধ হয়, দক্ষিণারঞ্জনের অর্থেও উৎসাহে “জ্ঞানান্বেষণ’ নামক দ্বিভাষী পত্রিকা বাহির হয়, এবং রসিকের প্রতি তাঁহার সম্পাদকতার ভার অর্পিত হয়।

 রসিককৃষ্ণ কালেজ হইতে বাহির হইয়া কিছুদিন হেয়ারের স্কুলে শিক্ষকতা করেন। কিন্তু ঠিক কতদিন ঐ কার্য্যে ব্রতী ছিলেন তাহা বলিতে পারি না। যাহা হউক ত্বরায় তাঁহার পদবৃদ্ধি হয়। ১৮৩৪ সালের পর যখন হিন্দু কালেজের কৃতবিদ্য যুবকগণকে ডেপুটী কালেক্টরী পদ দেওয়া হইতে লাগিল, তখন তিনিও ডেপুটী কালেক্টরী পদ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। উক্ত পদে প্রতিষ্ঠিত থাকিয়া তিনি অনেক দিন বৰ্দ্ধমানে বাস করেন। এই