পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩২
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

কোন্নগরের লোক বহুদিন ভুলিতে পরিবে না। ইঁহার স্বলিখিত সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত হইতে ইঁহার জীবনবৃত্তান্ত সংকলন করিতেছি।

 ১৮১১ সালে ২৭শে জুলাই কোন্নগর গ্রামে শিবচন্দ্র দেবের জন্ম হয়। ইঁহার পিতা ব্রজকিশোর দেব, কমিসরিয়েটে সরকারের কাজ করিতেন। ঐ কাজে তখন বিলক্ষণ আয় ছিল। সুতরাং ব্রজকিশোর দেব সে সময়কার একজন সম্পন্ন গৃহস্থ ছিলেন। তিনি বহুকাল সরকারী কাজ করিয়া বৃদ্ধাবস্থায় পেনশন লইয়া কাৰ্য্য হইতে অবসৃত হন। সংসারের শৃঙ্খলা, সুবন্দোবস্ত ও সকল কার্য্যের সুনিয়মের জন্য তিনি গ্রামের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি সৰ্ব্বদা একটা ঘড়ি নিকটে রাখিতেন, এবং তদনুসারে সকল কাজ যথা সময়ে করতেন। তাঁহার সমুদয় কাজ কৰ্ম্ম ধায়িক হিন্দুগৃহস্থের আদর্শ স্থানীয় ছিল।

 শিবচন্দ্র ব্রজকিশোরের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র। প্রথমে তদানীন্তন রীতি অনুসারে গ্রাম্য পাঠশালাতে শিবচন্দ্রের শিক্ষারম্ভ হয়। দশ বৎসর বয়সে তিনি গৃহে বসিয়াই একজন আত্মীয়ের সাহায্যে ইংরাজী শিখিতে আরম্ভ করেন। একাদশ বৎসর বয়ঃক্রমকালে তাঁহার জননীর মৃত্যু হয়। তৎপরে কিছুদিন গোলমালেই কাটিয়য়ায় সে সময়ের মধ্যে তাহার বিদ্যাশিক্ষার বিষয়ে কেহই বিশেষ মনোযোগ করেন নাই। ত্রয়োদশ বর্ষ বয়সে তাহার বিশেষ আগ্রহে তাঁহার পিতা তাঁহাকে কলিকাতায় আনেন; এবং ১৮২৫ সালের ১লা আগষ্ট দিবসে, চতুর্দশ বর্ষ বয়সে, তাঁহাকে হিন্দুকালেজে ভৰ্ত্তি করিয়া দেন। হিন্দুকালেজে তিনি ছয় বৎসর পাঁচ মাস কাল অধ্যয়ন করিয়াছিলেন; এবং প্রথম শ্রেণীতে উঠিয়া ১৬ টাকা বৃত্তি পাইয়াছিলেন। এই সময়েই তিনি ডিরোজিওর শিষ্যদলভূক্ত হইয়া তাঁহার যৌবনসুহৃদগণের সতি সম্মিলিত হন। সে বন্ধুতায় স্মৃতি চিরদিন তাঁহার হৃদয়ে লেখা ছিল। উত্তরকালে যখন তিনি পলিতকেশ বৃদ্ধ তখনও তাঁহার নিকটে বসলে সময়ে সময়ে দেখা যাইত যে, ডিরোজিওর সামান্য সামান্য উক্তিগুলি তাঁহার মনে উজ্জ্বল রহিয়াছে, যেন কল্যকার ঘটনা।

 কালেজে পাঠের সময়ে পরলোকগত কেশবচন্দ্র সেন মহাশয়ের পিতৃব্য হরিমোহন সেন মহাশয়ের সহিত তাঁহার প্রগাঢ় বন্ধুতা জন্মে; এবং সে সময়ে উভয় বন্ধুতে মিলিয়া আরব্য উপন্যাস বাঙ্গালাতে অনুবাদ করিয়া মুদ্রিত করেন।