পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৫
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ।

দূর করিবার মানসে তিনি ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির নিকটে কোন্নগরে একটা ষ্টেশন করিবার জন্য আবেদন করেন। ঐ আবেদনের ফলস্বরূপে ১৮৫৬ সালে কোন্নগরে ষ্টেশন খোলা হয়।

 তাঁহারই আবেদন অনুসারে ১৮৫৮ সালে কোন্নগরে একটা ডাকঘর স্থাপিত হয়।

 কোন্নগরে ম্যালেরিয়া জ্বর দেখা দিলে, তাঁহারই প্রযত্নে গবর্ণমেণ্ট একটা চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি স্থাপন করেন। তিনি সেজন্য একটা বাড়ী, ডিসপেন্সারির ব্যবহারার্থ বিনা ভাড়াতে দেন। ঐ ডিসপেন্সারির দ্বারা কোন্নগরের লোকের মহোপকার সাধিত হইয়াছিল। ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কিঞ্চিৎ হ্রাস হইলে, ১৮৮১ সালে গবৰ্ণমেণ্ট ঐ ঔষধালয়টী তুলিয়া দেন। ১৮৮৩ সালে শিবচন্দ্র বাবু নিজের ব্যয়ে একটা হোমিওপ্যাথিক ঔষধালয় স্থাপন করেন। উহা হইতে প্রতিদিন প্রাতে দরিদ্রদিগকে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হইত। এই কাৰ্য্যটা তিনি জীবনের শেষ দিন পৰ্য্যন্ত চালাইয়াছিলেন।

 ধৰ্ম্ম ও সমাজ সংস্কার বিষয়েও তিনি উদাসীন ছিলেন না। তিনি তাঁহার সংক্ষিপ্ত আত্ম-জীবন-চরিতে লিখিয়া রাখিয়া গিয়াছেন যে, যৌবনকালে যখন তিনি ডিরোজিওর শিষ্যদল ভুক্ত ছিলেন, তখন হইতেই তাঁহার প্রাচীনধর্মের প্রতি বিশ্বাস বিলুপ্ত হয়; এবং তিনি অন্তরে অন্তরে একেশ্বর-বাদী হন। কিন্তু বহুবৎসর কৰ্ম্মসূত্রে নানাস্থানে ভ্রমণ করিবার সময়ে সে অস্তরের বিশ্বাস অন্তরেই থাকে; তদনুসারে কার্য্য করিবার বিশেষ সুবিধা পান নাই। পরে ১৮৪৩ সালে যখন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় ব্রাহ্মসমাজে যোগ দিয়া ইহাকে বলশালী করিয়া তোলেন এবং স্বৰ্গীয় অক্ষয়কুমার দত্ত মহাশয়ের সম্পাদকতার অধীনে যোগ্যতাসহকারে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ সম্পাদিত হইতে থাকে, তখন, ১৮৪৪ সালে, তিনি উক্ত পত্রিকার গ্রাহক শ্রেণীভুক্ত হইয়া পরম্বহ্মের উপাসনা আরম্ভ করেন। সেই সময়ে তিনি বালেশ্বর হইতে বদলী হইয়া মেদিনীপুরেয় ডেপুটী কালেক্টর হইয়া আসেন।

 ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরাগ বর্দ্ধিত হওয়াতে তিনি ১৮৪৬ সালে মেদিনীপুরে একটা ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন এবং উৎসাহ সহকারে ব্রাহ্মধৰ্ম্ম প্রচারে প্রবৃত্ত হন। ১৮৫০ সালে কলিকাতার সন্নিহিত আলিপুরে যখন চব্বিশ পরগণার ডেপুটা কালেক্টর হইয়া আসেন, তাঁহার কিঞ্চিৎ পরেই বিধিপূৰ্ব্বক ব্রাহ্মধৰ্ম্ম