পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৭
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ।

হরচন্দ্র-ঘোষ।

 ইনি কলিকাতার ছোট আদালতের সুবিখ্যাত জজদিগের মধ্যে একজন অগ্রগণ্য ব্যক্তি বলিয়াই সাধারণের নিকট পরিচিত; ইনিও ডিরোজিও বৃক্ষের একটা উৎকৃষ্ট ফল ও রামতনু লাহিড়ী মহাশয়ের যৌবন-সুহৃদগণের মধ্যে একজন খ্যাতিমান ব্যক্তি। অনুমান ১৮০৮ সালে ইহার জন্ম হয়। শৈশবকাল হইতেই ইহার জ্ঞান-পিপাসা ও আত্মোন্নতির ইচ্ছা অতিশয় ৱলবতী দৃষ্ট হইয়াছিল। সেকালে বাঙ্গালী ভদ্র গৃহস্থদিগের মধ্যে সন্তানদিগকে পারসী শিখাইবার রীতি ছিল। ইংরাজী শিক্ষার দিকে কেহ বিশেষ মনোযোগ করিতেন না। কিন্তু বালক হরচন্দ্র কেবল পারসী শিখিয়া সন্তুষ্ট না থাকিয়া ইংরাজী শিখিবীর জন্য ব্যগ্র হইয়া উঠিলেন। এরূপ শোনা যায়, নিজের ব্যগ্রতা ও চেষ্টার গুণে তিনি নব-প্রতিষ্ঠিত হিন্দুকালেজে ভৰ্ত্তি হইয়াছিলেন। হিন্দুকালেজের যে সকল বালক ডিরোজিওর দ্বায়া আকৃষ্ট হইয়া তাঁহার শিষ্যমণ্ডলাভূক্ত হন, হরচন্দ্র ঘোষ তন্মধ্যে একজন প্রধান। চিরদিনই তাঁহার প্রকৃতিতে এক প্রকার ধীরচিত্ততা ও স্থিতিশীলতা ছিল। তিনি ডিরোজিওর শিক্ষার অনেক গুণ পাইয়াছিলেন বটে, কিন্তু তাঁহার অপরাপর বন্ধুদিগের ন্যায় ধৰ্ম্ম ও সমাজসংস্কারে উৎসাহ প্রদর্শন করেন নাই।

 একাডেমিক এসোসিএশন স্থাপন বিষয়ে তিনি একজন প্রধান উদ্যোগী ছিলেন; এবং উক্ত সভাতে বক্তৃতাদি করিতেন। এরূপ শোনা যায়, তাঁহার বিদ্যা-বুদ্ধি ও দক্ষতার পরিচয় পাইয়া লর্ড উইলিয়াম বেটিঙ্ক মহোদয় তাঁহাকে নিজের সঙ্গে পশ্চিমে লইয়া যাইতে চাহিয়াছিলেন। হরচন্দ্র কেবল স্বীয় জননীর প্রতিকূলতা বশতঃ সে পদ গ্রহণ করিতে পারেন নাই। কিন্তু তিনি লর্ড উইলিয়াম বেটিঙ্কের সঙ্গে যাইতে না পারিলেও উক্ত মহামতি রাজপুরুষের চিত্ত হইতে অন্তর্হিত হন নাই। ১৮৩২ সালে যখন এ দেশীয় দিগের জন্য মুন্সেফী পদের সৃষ্টি হইল, তখন গবর্ণর জেনেরাল হরচন্দ্রকে বাকুড়ার মুনসেফ নিযুক্ত করিলেন। তিনি বাকুড়াতে পদার্পণ করিবামাত্র লোকে বুঝিতে পারিল যে একজন উন্নতচেতা, সত্যপ্রিয়, কৰ্ত্তব্যপরায়ণ মানুষ আসিস্বাছেন। হরচন্দ্ৰ আদালতের চেহারা, হাওয়া ও কাৰ্য্যপ্রণালী পরিবর্ত্তিত করিয়া ফেলিলেন। রীতিমত ১০টা ৫টা কাছারি আরম্ভ হইল: হরচন্দ্র স্বহস্তে সাক্ষীর জবানবন্দী লিখিতে লাগিলেন; সৰ্ব্বসমক্ষে আপনার রায় লিখিতে ও ব্যক্ত করিতে লাগিলেন। সৰ্ব্বশ্রেণীর লোকের বিচারকার্য্যের প্রতি প্রগাঢ়

 ১৮