পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

আস্থা জন্মিল। সে সময়ে লোকে উৎকোচগ্রহণকে পাপ বলিয়াই মনে করিত না। কিন্তু হরচন্দ্র ঘোষ এমনি ধৰ্ম্মপরায়ণতার সহিত বিচারকার্য্য করিতে লাগিলেন যে শুনিয়াছি তাঁহার এক শত টাকা বেতনে কুলাইত না বলিয়া কলিকাতা হইতে তাঁহার খরচের জন্য মধ্যে মধ্যে টাকা লইতে হইত।

 বাঁকুড়া বাসকালে কেবল ষে তিনি দক্ষতার সহিত রাজকাৰ্য্য চালাইতে লাগিলেন তাহা নহে। ডিরোজিও মণ্ডলী হইতে তিনি এই দৃঢ়বিশ্বাস হৃদয়ে বদ্ধমূল করিয়া লইয়া গিয়াছিলেন যে শিক্ষা ভিন্ন এদেশের দুৰ্গতি দূর হইবার উপায়ান্তর নাই। তাই নিজ কার্য্যে প্রতিষ্টিত হইয়া বসিয়াই সেই বিশ্বাস কার্য্যে পরিণত করিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন। নিজ বারে একটা ইংরাজী স্কুল স্থাপন করিয়া সেখানে বালকদিগকে শিক্ষা দিবার প্রয়াস পাইতে লাগিলেন। আবার নিজ জ্ঞানের উন্নতিসাধনেও মনোযোগী রহিলেন।

 এক বৎসর অতীত হইতে না হইতে কার্য্যদক্ষতার গুণে তিনি সদর আমীনের পদে উন্নীত হইলেন। বাঁকুড়াতে সুখ্যাতির সহিত ছয় বৎসর কার্য্য করিয়া হরচন্দ্র ১৮৩৮ সালে হুগলীতে বদলী হন। ১৮৪৪ সালে প্রিন্সিপাল সদর আমীন হইয়া ২৪ পরগণাতে আসেন। ১৮৫২ সালে তিনি কলিকাতা পুলিস-কোর্টে জুনিয়ার মাজিষ্ট্রেটের পদ প্রাপ্ত হয়। ১৮৫৪ সালে কলিকাতা ছোট আদালতের জজের পদে উন্নীত হন।

 কিন্তু তিনি অপর লোকের ন্যায় কেবল আপনার পদবৃদ্ধি ও অর্থাগম লইয়াই ব্যস্ত থাকিতেন না। কলিকাতাতে অবস্থান কালে তিনি দেশের সৰ্ব্ববিধ উন্নতির সহায়তা করিতেন। মহাত্মা বেথুন যখন বালিকাবিদ্যালয় স্থাপন করেন, তখন তিনি তাঁহার কমিটীভূক্ত হইয়া বিশেষরূপে সহায়তা করেন। মহাত্মা ডেবিড হেয়ারের মৃত্যু হইলে যখন তাঁহার স্মৃতিচিহ্ন স্থাপনের উদ্যোগ হয়, তখন তিনিই ঐ কমিটীয় সম্পাদক হইয়া সে কাৰ্য্য সমাধা করেন।

 প্রভিভাশালী ও জ্ঞানানুরাগী ব্যক্তিদিগকে সহায়তা করিতে তিনি অতিশয় ভালবাসতেন। হিন্দুপেট্রিটের সুবিখ্যাত সম্পাদক কৃষ্ণদাস পালকে তিনি এক সময়ে পুত্র-নিৰ্ব্বিশেষে সহায়তা করিয়াছিলেন। অপরাপর অনেক দরিদ্র সস্তানকে তিনি অর্থ ও সামর্থ্যের দ্বারা পালন করিতেন।

 ১৮৬৮ সালের ৩রা ডিসেম্বর হরচন্দ্ৰ ইহলোক পরিত্যাগ করেন। তাঁহার