পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫২
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

ভবধাম পরিত্যাগ করিতে হইল। তিনি অনেক দিন জ্বরে ভুগিয়া অনুমান ১৮৪১ কি ১৮৪২ সালে পরলোক গমন করেন।

 কিন্তু লাহিড়ী মহাশয় যখন এই সকল পারিবারিক ঘটনার মধ্যে আন্দোলিত হইতেছিলেন, তখন নানা কারণের সমাবেশ হইয়া সমগ্র বঙ্গসমাজকে বিশেষরূপে আন্দোলিত করিতেছিল। এই কালকে ইংরাজী-শিক্ষার প্রতিষ্ঠা কাল বলা যাইতে পারে। কথা উঠিয়াছিল এদেশীয়দিগকে কোন রীতিতে শিক্ষা দেওয়া যায়, প্রাচ্য কি প্রতীচ্য? এই প্রশ্ন লইয়া কমিটী অব পবলিক ইনষ্ট্রক্‌শনের সভ্যগণের মধ্যে ঘোর বিবাদ উপস্থিত হইয়াছিল। উভয়দলেই প্রায় সম-সংখ্যক ব্যক্তি, সুতরাং কোন মতই নিশ্চিতরূপে স্থিরীকৃত হয় না; কাজকৰ্ম্ম একপ্রকার বন্ধ হইয়া গেল। প্রাচ্যশিক্ষা পক্ষপাতীদিগের পরামর্শানুসারে বৃত্তি দিয়া সংস্কৃত কলেজে ও মাদ্রাসাতে ছাত্র আকৃষ্ট করা হইতে লাগিল, সংস্কৃত ও আরবী গ্রন্থ সকল মুদ্রিত করিয়া স্তূপাকার বন্ধ রাখা হইতে লাগিল; দেশপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত ও মৌলবীদিগকে আনিয়া উক্ত কালেজদ্বয়ে প্রতিষ্ঠা করা হইতে লাগিল; তথাপি প্রাচ্য শিক্ষা সম্বন্ধে দেশের লোকের অনুরাগ দৃষ্ট হইল না। “ইংরাজী শিক্ষা চাই, ইংরাজী শিক্ষা চাই” এই রব যেন দেশের সৰ্ব্বত্র ধ্বনিত হইতেছিল। ইংরাজী শিক্ষা প্রচলনের জন্য সংস্কৃত কালেজের ছাত্রগণ শিক্ষা কমিটীর নিকট এক দরখাস্ত প্রেরণ করিল। কিন্তু পূৰ্ব্বোক্ত কারণে সকল প্রশ্নই বন্ধ রহিল। ১৮৩৪ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রামমোহন রায়ের বন্ধু মিষ্টর উইলিয়াম এডামকে দেশীয় শিক্ষার অবস্থা পরিদর্শন করিবার জন্য নিযুক্ত করিলেন। তিনি ভিন্ন ভিন্ন জেলাতে, ভ্রমণ করিয়া বিবরণ সংগ্ৰহ করিতে লাগিলেন। ওদিকে সুবিখ্যািত লর্ড মেকলে আসিয়া বিবাদক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইলেন। তিনি গবর্ণর জেনেরালের প্রথম ব্যবস্থাসচিবরূপে নিযুক্ত হইয়া এদেশে আসিলেন। তাঁহাকে পাইয়া লর্ড উইলিয়াম বেটিঙ্ক যেন দক্ষিণ হস্ত পাইলেন।

 কোর্ট অব ডাইরেক্টারস্‌দিগের ১৮১৩ সালের শিক্ষাসম্বন্ধীয় আদেশ ইংরাজী শিক্ষা সম্বন্ধে খাটে কি না, জানিবার জন্য ঐ নির্দ্ধারণ পত্র নূতন ব্যবস্থা-সচিব মেকলের বিচারার্থ অৰ্পণ করা হইল। মেকলে বিশেষ বিবেচনা করিয়া ১৮৩৫ সাল ২রা ফেব্রুয়ারি দিবসে এক সুযুক্তিপূর্ণ মন্তব্য পত্র লিপিবদ্ধ করিলেন। সেই মন্তব্যপত্রের উপসংহারে লিখিলেন;

 “To sum up what I have said: I think it clear that we are