পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৭
সপ্তম পরিচ্ছেদ।

 এই সভা সম্বন্ধে একটা স্মরণীয় ঘটনা আছে। তারাচাঁদ চক্রবর্ত্তী এই সভার একজন প্রধান উৎসাহী সভ্য ছিলেন। একদিন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের এক বক্তৃতাতে প্রসিদ্ধ ডি, এল, রিচার্ডসন সাহেব উপস্থিত ছিলেন। তিনি রাজনীতিতে টোরীদলভুক্ত লোক ছিলেন। যুবকদলের অতিরিক্ত স্বাধীন চিন্তা তাঁহার ভাল লাগিত না। তিনি উক্ত বক্তৃতাতে বিরক্ত হইয়া তাহা থামাইয়া দেন; এবং এই যুবকদলকে চক্রবর্ত্তী ফ্যাকশন, (Chuckerbutty Faction) বলিয়া ডাকিতে আরম্ভ করেন। ১৮৪৩ সালে যখন জর্জ টমসন এদেশে আসেন তখন ইঁহারা চক্ৰবৰ্ত্তী ফ্যাকশন নামে প্রসিদ্ধ।

 বক্তাদিগের মধ্যে প্রসন্ন কুমার মিত্র এই সময়কার নব-প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের প্রথম ছাত্রদলের মধ্যে একজন বিশেষ লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। ইংরাজী শিক্ষা প্রচলনের ন্যায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনও এই সময়কার একটা প্রধান ঘটনা। অগ্রে এদেশীয়দিগকে চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা দিবার জন্য বিশেষ আয়োজন ছিল না। ইংরাজ ডাক্তারগণের সঙ্গে সঙ্গে এদেশীয় হস্পিটাল এসিষ্টাণ্ট প্রেরণ করা আবশ্যক হইত। তাই একদল এদেশীয় হস্পিষ্টাল এসিষ্টাণ্ট প্রস্তুত করিবার জন্য “মেডিকেল ইনষ্টিটিউশন” নামে একটা সামান্য বিদ্যালয় স্থাপিত হইয়াছিল। সেখানে হিন্দুস্থানী ভাষাতে ইংরাজী চিকিৎসা শাস্ত্রের কতকগুলি ঔষধ ও তাহার গুণাবলী বিষয়ে সপ্তাহের মধ্যে কয়েকদিন উপদেশ দেওয়া হইত মাত্র। ডাক্তার টাইটলার (Dr. Tytler) ঐ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিলেন। যে ১৮৩৪ সালের কথা বলিতেছি, তখন Dr. Ross ঐ বিদ্যালয়ে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার উপদেষ্টা ছিলেন। ছাত্রদিগকে তিনি যে উপদেশ দিতেন তাহাতে সোডার গুণ সৰ্ব্বদাই ব্যাখ্যা করিতেন। ফলতঃ বোধ হয় তিনি সোডা-তত্ত্ব ব্যতীত অপর পদার্থতত্ত্ব বড় অধিক জানিতেন না। যখন তখন সোডার মহিমা শুনিয়া শুনিয়া ছাত্রের এমনি বিরক্ত হইয়া গিয়াছিল যে তাহারা তাঁহার নাম সোডা রাখিয়াছিল! নব্যবঙ্গের নেতৃগণ এই সোডাকে লইয়া সৰ্ব্বদা কৌতুক করিতেন। কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এই সময়ে প্রকাশ্য সংবাদপত্রে “Soda and his Pupils” এই শীর্ষক একট প্রবন্ধ- লিখিয়া ছিলেন। Dr. Tytler একজন প্রাচ্যপক্ষপাতী ও উৎকেন্দ্র লোক ছিলেন। এদেশীয়দিগকে ইংরাজী ভাষাতে চিকিৎসাবিদ্যা শিখাইতে তাঁহার ইচ্ছা