পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

ছিল না। এই কারণে কৰ্ত্তমান মেডিকাল কলেজ স্থাপনের সময় তিনি বড় বাধা দিয়াছিলেন।

 যাহা হউক সে সময়ে পূৰ্ব্বোল্লিখিত মেডিকেল ইনষ্টিটিউশন চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষার একমাত্র স্থান ছিল না। পাঠকগণ অগ্ৰেই জানিয়াছেন যে সংস্কৃতকালেজে চরক ও সুশ্রুতের শ্রেণী এবং মাদ্রাসাতে আবিসেন্নার শ্রেণী খুলিয়া দেশীয় বৈদ্যকশাস্ত্র শিক্ষা দিবার নিয়ম প্রবর্ত্তিত করা হইয়াছিল। মেডিকেল কালেজ স্থাপন পৰ্য্যন্ত এই নিয়ম প্রবৰ্ত্তিত ছিল। কিন্তু ইংরাজ রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ইংরাজী প্রণালীতে শিক্ষিত চিকিৎসকের প্রয়োজন দিন দিন বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। বিলাত হইতে বহু অর্থ দিয়া এত ডাক্তার আনা কঠিন বোধ হইতে লাগিল। সুতরাং কর্ত্তৃপক্ষ এদেশীয়দিগকে ইংরাজী প্রণালীতে চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক বোধ করিতে লাগিলেন। লর্ড উইলিয়াম বেটিঙ্কের প্রকৃতি এই ছিল যে তিনি সহজে কোনও নুতন পথে পা দিতে চাহিতেন না; কিন্তু কৰ্ত্তব্য একবার নির্দ্ধারিত হইলে, বীরের ন্যায় অকুতোভয়ে সে পথে দণ্ডায়মান হইতেন, তখন আর বাধা বিপত্তি গ্রাহ করিতেন না। তাঁহার চরিত্রের এই গুণের প্রমাণ মেডিকেল কালেজ স্থাপনেও পাওয়া গেল।

 ১৮৩৪ সালে লর্ড বেটিঙ্ক দেশীয় চিকিৎসা বিদ্যার অবস্থা অবগত হইবার জন্য সে সময়ের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তিকে লইয়া এক কমিশন নিয়োগ করিলেন। সুবিখ্যাত রামকমল সেন মহাশয় ঐ কমিশনের একজন সভ্য ছিলেন। সভ্যগণ নানা জনের সাক্ষ্য লইয়া ও নানা স্থান হইতে সংবাদ সংগ্ৰহ করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলেন যে, এদেশীয়দিগকে ইউরোপীয় প্রণালীতে ইউরোপীয় চিকিৎসা শাস্ত্র শিক্ষা দিবার জন্য একটা মেডিকেল কালেজ স্থাপিত হওয়া আবশ্যক। তদনুসারে ১৮৩৫ সালের জুনমাসে মেডিকেল কলেজ খোলা হয়। ডাক্তার ব্রাম্‌লি (Dr. Bramley) ইহার প্রথম অধ্যক্ষ হন। তাঁহার মৃত্যু হইলে ১৮৩৭ সালে মহামতি হেয়ার ইহার সম্পাদক হন। তাঁহারই প্ররোচনাতে তাঁহার ছাত্র মধুসূদন গুপ্ত সৰ্ব্বপ্রথমে মৃতদেহব্যবচ্ছেদ করিবায় জন্য অগ্রসর হন। সে কালের লোকের মুখে শুনিয়াছি এই মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ লইয়া সে সময়ে তুমুল আন্দোলন উপস্থিত হইয়াছিল। বেটিঙ্ক মহোদয় সে সময়ে এ দেশে ছিলেন না। তৎপূৰ্ব্ববর্তী মার্চ মাসের শেষে তিনি কাৰ্য্যভার ত্যাগ করিয়া স্বদেশে